মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

বাঙলা ভাষা’র ‘বেহাল দশা’ জরুরী ‘ভাষা হাসপাতাল’ আবশ্যক

Reporter Name
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০
বাঙলা ভাষা’র ‘বেহাল দশা’ জরুরী ‘ভাষা হাসপাতাল’ আবশ্যক

সিলেটের চাকরির খবর ডেস্ক :- প্রাচীন-আধুনিক কাল বিকৃত প্রতিদিন ভাষার হাল বাংলা আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা। বাংলাদেশ নামকরণের পূর্ব থেকেই তথা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম পুর্ববর্তী হতেই এ ভাষায় কথা বলে অগণিত বাঙালী। শুধু বাংলা কিংবা ভারত বর্ষেই নয় এ ভাষার ব্যবহার বিশে^র অনেক দেশেই আজো পরিলক্ষিত। এর রয়েছে নিজস্ব সুগঠিত বর্ণমালা যার আজকের রূপ আর প্রাচীন রূপ এক নয়। আশংকা করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এ সকল বর্ণমালার গঠন প্রণালী হয়তোবা বিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরো পরিবর্তিত রূপ ধারণ করতে পারে।

বর্ণের গঠন ভিন্ন আকৃতির ধারণ করতে পারে। শতাব্দী থেকে যুগ-বছর-মাস দিন দিন প্রতিদিন যুক্তবর্ণের গঠন, ভাঙ্গন, উচ্চারণ, ব্যবহারকালীন অঙ্গভঙ্গী, ভাষারীতির মিশ্রণ-দূষণ, আঞ্চলিক ও শুদ্ধরূপে বিকৃতি নানান দেশের ভাষার সংমিশ্রণের প্রতিফলন ও নতুন মিশ্রিত ভাষার ফলে তৈরী নব্যশব্দ বা উচ্চারণ, বিকৃতকরণ, ব্যবহার ও উচ্চারণগত প্রকৃয়ায় বিবর্তন, যুক্তবর্ণের ভাঙ্গনের ফলে লেখ্য রূপের ব্যঙ্গাত্বক পরিণতি আজ প্রচলিত ধারাবাহিক। উদ্ভিদ-প্রাণী-ব্যাক্তির অসুস্থতায় চিকিৎসা অহরহ অথচ বাংলা ভাষা আজ এত মাত্রায় পীড়িত যে এর বেলায় নেই কোন বৈদ্য-পথ্য-চিকিৎসক-হাকিম-কবিরাজ, নেই হাসপাতাল-ক্লিনিক-চিকিৎসালয়। বাংলা ভাষাবাসী অঞ্চলে ‘বাংলা একাডেমী’ থাকলেও ভাষা বিবর্তনের বিষয়টি যেন তাদের নিকট একবারেই নগণ্য। ভাষার বিবর্তন-পরিবর্তন রোধে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

স্ব স্ব আঞ্চলিক ভাষার প্রতি স্ব স্ব জাতী-গোষ্ঠী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্তও কারো কোন সংরক্ষণের দ্বায়ীত্ব ও এর ঐতিহ্য ধরে রাখার ভূমিকা কেউই প্রয়োজন মনে করছে না। বাংলার শুদ্ধরূপ, স্থানীয় পর্যায়ের আঞ্চলিক রূপ, কথ্য-লেখ্য সবই পাল্টাচ্ছে শতাব্দী থেকে প্রতিদিন। বিকৃত হচ্ছে অশিক্ষিত-স্বল্পশিক্ষিত-উচ্চশিক্ষিত প্রত্যকের মাধ্যমে যার অযুহাত হয়ে উঠেছে আধুনিক জীবনধারা। পার্শবর্তী দেশ ভারতের বাংলা ভাষা আর বাংলাদেশের বাংলা ভাষার উচ্চারণ ও উচ্চারণ ভঙ্গীতে ভিন্নতা পরিলক্ষীত। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া ও সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষাতেও আদি কালের আঞ্চলিক উচ্চারণ আর সাম্প্রতিক সময়ের উচ্চারণে বদলের ব্যপকতা দারুণভাবে লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে যেন প্রতিক্ষণ নব্যভাষার ভুমিষ্ঠতা। অতচ ভাষার প্রাচীনতা ধরে রাখার প্রয়োজনটুকুও কেউ বোধ করছে না।

শতবর্ষ পূর্বের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা লোকদের ভাষার অডিও-ভিডিও রেকর্ড লক্ষ্য করলে সাম্প্রতিক সময়ের ভাষাগত উচ্চারণে পরিবর্তনে ব্যপকত্ স্পষ্ট ভিন্নতা পরিলক্ষীত। আঞ্চলিক পর্যায়ের ভাষা সংরক্ষণের কোন প্রতিষ্ঠান বা কার্যকারী ব্যবস্থা নেই কেন তা চলতি তরুণ প্রজন্মের প্রশ্নের সম্মুখীন। ভাষাবিদরা কি রাজী হবেন এর কৈফত প্রদানে কাঠগড়ায় দন্ডায়মান হতে ? নাকি ‘ভাষা পরিবর্তনশীল’ এই মন্থব্যমূলক সিদ্ধান্ত দিয়ে খালাস নিবেন অন্তহীন। সাম্প্রতিক চতুর্থ প্রজন্মে যা আজ ভাবনাহীন।বাংলা ভাষার আদিরূপ ও প্রাকৃতিকতা রক্ষায় এখন অতিব: জরুরী ‘ভাষা চিকিৎসালয়’ বা হাসপাতাল যেখানে চিকিৎসা হবে ভাষাবিদ, ভাষা বিকৃতকারী, বর্ণমালার গঠনের পরিবর্তনকারী, কম্পিউটার মুদ্রণে যুক্তবর্ণের গঠন বিকৃতকারী, ভিন্ন দেশের ভাষার সাথে জগাখিচুরী করে প্রকৃত বাংলাকে বিকৃত করে মিশ্রণ ভাষার উচ্চারণকারী নির্লজ্জদের, বিশে^র নানান দেশ থেকে আসা বাংলা ভাষার সাথে অন্য দেশের বর্ণ/শব্দ মিলিয়ে অর্ধ বিকৃতকারীর এবং ভাষা বিকৃত হচ্ছে জেনেও রাষ্ট্রীয়-সামাজিক-গোষ্ঠীগত ব্যবস্থা নিচ্ছেননা তাদেরও।

প্রতি বছর খ্রিষ্টবর্ষের ফেব্রুয়ারীর ২১ তারিখ ঘটা করে পালিত হয় ভাষা/শহীদ দিবসের অথচ বাংলা ভাষা দিন দিন অধ:পতনের দিকে যার খোজ কেউ রাখে না। স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পনের সংস্কৃতি এখন উৎসবমূখর। একবুক স্বপ্ন আর ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ততা নিয়ে বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়ে গেল তাদের অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের খোজ কেউ রাখে না, করে না কোন ধরণের সহযোগীতা। এটা কি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নাকি রাষ্ট্রীয় উৎসব পালন ? ভূল উচ্চারণে কতোপকথনে, মিশ্রভাষায় পুস্থক, পত্রিকা, দলিল-দস্থাবেজ মুদ্রণ, দেয়াল লিখন, প্রতিষ্ঠান সমূহের সাইনবোর্ড সর্ব ক্ষেত্রেই অগণিত ভূল সকলের নিকট প্রতিফলিত হলেও সমাজ-প্রসাশন আজ নির্বিকার।

টেবিল, চেয়ার, ফ্যান, লাইট, মোবাইল, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি, ব্রেকফাষ্ট-লাঞ্চ-ডিনার, ফাষ্টফুড, ব্রিজ, রোড, এক্সিডেন্ট, শার্ট, মার্কেট, ফ্রিজ, বিল্ডিং, ডায়েরী, এরোপ্লেইন, এয়ারপোর্ট, ল্যাম্পপোষ্ট, কোর্ট হসপিটাল-ক্লিনিক, পেশান্ট, সিজার-অপারেশন, ফিল্ড, কেক, কারেন্ট, সাইনবোর্ড, ওভারব্রীজ, কার, বাইক প্রভৃতি অসংখ্য-অগণিত ইংরেজী-আরবী-ফারসী-হিন্দি-গুজরাটী-চায়নিচ-উর্দু শব্দসমূহের মিলনে-মিশ্রণে বাংলার মতো এক ঐতিহ্যবাহী ভাষা বিকৃত হচ্ছে প্রতিনিয়ত গণহারে। এদেশের ভূমি অফিস, কাজী অফিস, দৈনিক পত্রিকা সমূহে, পুস্থক মুদ্রনালয়ে, লিফলেট-ব্যানার তথা বিজ্ঞাপনী সংস্থা সমূহে এমনকি উচ্চ আদালত-বিচারালয় সমূহেও সরকারী আদেশ থাকলেও তা অদ্যবদী পর্যন্ত ভিন্ন বা ইংরেজী ভাষার/শব্দসমূহের ব্যাবহার বন্ধ হচ্ছে না কার স্বার্থে তা আজ ভাবনাহীন যা বাঙ্গালী জাতীসত্তার নির্লজ্জতা প্রমাণ করে। বাংলা শব্দ ব্যবহার করে দেশীয় ঔষধ শিল্পগুলো ঔষধের নামকরণ না করে ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করছে যেখানে চিকিৎসক পর্যন্ত বিদেশী ভাষায় ব্যবস্থাপত্র লিখছে, তাদের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছে। শুধু এতেই ক্ষান্ত নয়, বিদেশী/ইংরেজী শব্দ সমূহের উচ্চারণ বাংলা বর্ণমালা দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার দৃষ্টতা পর্যন্ত দেখাচ্ছে।

কথা বলার সময় অর্ধেক বাংলার সাথে অর্ধেক বিদেশী ভাষার মিশ্রণ ঘটিয়ে নিজের উচ্চ শিক্ষার দাপট জাহির করে বেড়াচ্ছে। কেউ শুদ্ধ বাংলা চর্চা করলে তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করছে-ভেঙ্গাচ্ছে। প্রবাস কিংবা শহর থেকে নিজ পরিবারে প্রত্যাবর্তন করেই সেই দেশের/শহরের ভাষা স্ব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে গর্বের সাথে সংমিশ্রণ করছে, নিজের পায়ে কুড়াল মারছে নিজ সংস্কৃতি-ভাষার সাথে। অথচ এটা রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোন থেকে অন্যায় হিসেবেও গণ্য হচ্ছে না বা বিকৃতির শাস্থির বিধান রেখে কোন আইন পর্যন্ত অদ্যবদি নেই বা পাশ করার প্রয়োজনটুকুও আমাদের মনে হচ্ছে না।

এক অসহায়-অসচেতন-শ্রদ্ধাহীন বাংলা ভাষার বাঙ্গালী জাতী-গোষ্ঠী আজ কোন পথে ? এক সময় চিরতরে হারিয়ে যাবে এই ভাষা। আমাদের পরববর্তী প্রজন্ম ‘বাঙলা ভাষা’ খুজবে জাদুঘরে।

এস এম শিহাব
লেখক, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
স্বপ্নীল-১৫/২ (২য় তলা), মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট। ফোন: ০৮২১-৭২৭৮৩৩, ০১৭৪০-৩০৮৮২২

সিলেটের চাকরির খবর / তানজিনা বেগম

হারানো বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আইনগত বিজ্ঞপ্তি, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, এফিডেভিট, শুভেচ্ছা অভিনন্দন সহ আপনার প্রতিষ্ঠানের যেকোন বিজ্ঞাপনের

জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, প্রচারে প্রসার প্রচারের জন্য আমরা ।

যোগাযোগের ঠিকানা

সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ

মোবাইলঃ ০১৭১২-০৪৫৩৯১


More News Of This Category