শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট / ২০৪ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

সিলেটের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য, মাদকদ্রব্য ও গরু-মহিষসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেছে। সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) ও জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) পৃথক অভিযানে এসব পণ্য জব্দ করে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সিলেট জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জব্দকৃত চোরাই পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ৪৮ বিজিবির আওতাধীন নোয়াকোট, শ্রীপুর, প্রতাপপুর, দমদমিয়া ও সোনালীচেলা বিওপির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একাধিক অভিযান চালায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, শাড়ি, গরু, চিনি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী নৌকা জব্দ করা হয়। একই দিনে ব্যাটালিয়নের সদর টহলদল সেনাবাহিনীর সহায়তায় গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা জব্দ ও দুই চোরাকারবারীকে আটক করে। পরে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযানিক কার্যক্রম দিন দিন জোরদার করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য সংঘটিত না হয়।

অন্যদিকে, একই দিনে সিলেট সেক্টরের অধীনস্থ জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) বিশেষ অভিযানে ১০টি ভারতীয় মহিষ আটক করে। জৈন্তাপুর উপজেলার সারিঘাট এলাকায় সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে জৈন্তাপুর বিওপির একটি টহলদল অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় মহিষগুলো আটক করে। এসব মহিষের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা।

জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, আটককৃত মহিষগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক অভিযান সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

জাতীয় স্বার্থে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করা বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি নিরাপদ রাখতে দিনরাত যে নিষ্ঠা ও ত্যাগের সঙ্গে কাজ করছেন, তা প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 


এই বিভাগের আরো খবর