পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে অবৈধ পথে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ যুবক।
গত ১২ দিন ধরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একটি মাফিয়া চক্রের হাতে বন্দি রয়েছেন তারা। জিম্মিকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে জনপ্রতি ২৬ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করছে।
জিম্মিদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামে। তারা হলেন: জীবন মিয়া (২৫), আব্দুল কাইয়ুম (২৬), মনিরুল ইসলাম (২৪), মামুন মিয়া (২৭), আতাউর রহমান (২৮), এনামুল হক (২৬), আতাউর রহমান (২৯), আমিনুল ইসলাম (২৫), সফিকুল ইসলাম (৩২) ও নিলয় মিয়া (২২)। এছাড়া রয়েছেন তেলিয়াপাড়ার আবুল হামজা, সাচনা গ্রামের আবুল কালাম এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের সোহেল মিয়া। অন্যজন, ইয়াসিন মিয়া (৩০), বর্তমানে লিবিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
স্বজনদের তথ্যমতে, গত ২৮ জানুয়ারি ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি ছাড়েন। জনপ্রতি ১৩-১৪ লাখ টাকার চুক্তিতে দালালরা তাদের আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাগরপথে ছোট নৌকায় ইতালি পাঠানোর কথা থাকলেও তার আগেই একটি চক্র তাদের জিম্মি করে ফেলে।
জিম্মি সফিকুল ইসলামের বাবা রাশিদ আলী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “জায়গা-জমি বিক্রি করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম। এখন টাকাও নেই, ছেলেও জিম্মি। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।” জীবন মিয়ার বাবা নুরু মিয়া জানান, দালালদের বিশ্বাস করে টাকা দিয়ে এখন ছেলের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন। জিম্মিকারীরা বাংলা ভাষায় কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে চাপ দিচ্ছে। প্রথমে ২৬ লাখ চাইলে এখন ১২ লাখ টাকায় রফা করার চেষ্টা করছে চক্রটি।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকুন নুর জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন, তবে কেউ সরাসরি অভিযোগ করেনি। বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হলেও তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
পুরো গ্রাম এখন উদ্বেগ ও কান্নায় ভেঙে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি উদ্যোগে জিম্মিদের উদ্ধার এবং জড়িত মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।