শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

জার্মানিকে হারানোর আনন্দে জাতীয় ছুটি ঘোষণা ইকুয়েডরে

ডেস্ক / ৩৬ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
জার্মানিকে হারানোর আনন্দে জাতীয় ছুটি ঘোষণা ইকুয়েডরে

জাতীয় দলের ঐতিহাসিক জয় উদ্‌যাপনে দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে ইকুয়েডর সরকার। জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পরদিনই এ ঘোষণা আসে।

বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। এই জয়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঘোষণা দেন, শুক্রবার (২৬ জুন) সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। পরে নির্বাহী আদেশ জারি করে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।

নোবোয়া লিখেছেন, ‘সমালোচনা, অপমান আর কঠিন সময় পেরিয়েও খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পুরো জাতিকে আনন্দ উপহার দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ। আগামীকাল ছুটি।’সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই ছুটি সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের জন্যই প্রযোজ্য এবং এটি পরে কাজ করে পুষিয়ে দিতে হবে না। তবে হাসপাতাল, জরুরি সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনির্বাপণ, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের ছিল না ইকুয়েডরের। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গনসালো প্লাতার দুর্দান্ত গোলে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এই জয়ে তারা সেরা আট তৃতীয় স্থানের একটি দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়।

বিশ্বকাপে এটি ইকুয়েডরের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম তারা আবার নকআউট পর্বে উঠল। ম্যাচ শেষে কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে এটিকে দেশের ‘বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, শুরুতে হতাশাজনক ফলের পরও খেলোয়াড়রা নিজেদের বিশ্বাস হারায়নি, আর সেই বিশ্বাসই তাদের ইতিহাস লিখতে সাহায্য করেছে।জার্মানির বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর জয় শুধু বিশ্বকাপের নকআউটের টিকিটই এনে দেয়নি, ইকুয়েডরের মানুষকে দিয়েছে এক স্মরণীয় উৎসবের উপলক্ষ। তাই ফুটবল উন্মাদনায় ভেসে যাওয়া দেশটিতে এক দিনের জন্য থেমে গেল কর্মব্যস্ত জীবন, আর শুরু হলো ঐতিহাসিক জয়ের উদ্‌যাপন।


এই বিভাগের আরো খবর