ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন সিলেটবাসী। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সর্বসাকুল্য ৮/১০ঘন্টা থাকে বিদ্যুৎ, ১ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে ২ঘন্টা হয় লোডশেডিং। এভাবেই লোডশেডিং এর কথা বলছিলেন দক্ষিণ সুরমার মিলন আহমদ নামের একজন চাকুরীজীবি।
ফলে অবর্ণনীয় লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট। একদিকে গরমে নাজেহাল অবস্থা এর মাঝে লোডশেডিং। আবার ৮ঘন্টা থাকবে না বিদ্যুৎ করা হয় এরও মাইকিং। চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না বিদ্যুৎ, আছে সার্ভার জটিলতা, বা ইঞ্জিনে ত্রুটির মতো সমস্যা।
এমন সব কারণ-অকারণে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। কয়েক দিন ধরে তীব্র তাপদাহ সাথে যোগ হওয়া লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটবাসী।
রাতে কিংবা দিনে প্রচন্ড গরমের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহককে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তারা জানান- সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৬৫ মেগাওয়াট। ঘাটতির পরিমাণ ৬০ ভাগ।
তেমনি সিলেট জেলায় ১৬০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১শ মেগাওয়াট। যার কারণে দিন-রাতে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার ঘটনা ঘটছে।
এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলেও বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় রাত-দিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জে গত শুক্রবার রাতে পল্লী বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকান্ডের কারণে ৫ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।
শিবগঞ্জের ব্যবসায়ী সুহাইল আহমদ বলেন, বাংলাদেশের আর কোনো জেলায় এতো বেশী লোডশেডিং হয় না, যে পরিমাণ হচ্ছে সিলেটে। বাচ্চাদের পড়ালেখা, ঘুম-নির্দা বলতে সবকিছুই ভেস্তে যাচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ ফেঞ্চুগঞ্জ এরিয়া অফিসের এজিএম শামসুল ইসলাম জানান, কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকান্ডের কারণে ক্ষতি সারাতে কাজ চলছে।
এখন বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির জানিয়েছেন, সমস্যা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।