বিয়ানীবাজারে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বন্ধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাজিদুল ইসলাম মুন্না (২৩)-কে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার কদমতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুন্না ঘাটাইল থানার দেলুটিয়া গ্রামের মো. ইব্রাহিমের ছেলে।
র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সিলেটের বিয়ানীবাজার থানাধীন খশির নামনগর গ্রামের বাসিন্দা ইমন আহমদ বাড়ি থেকে স্থানীয় বৈরাগীবাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে ইমনের বন্ধু আশরাফুলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে, ১০ ডিসেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইমন আহমদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত ইমনের ভাই বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল স্বীকার করে, আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সাজিদুল ইসলাম মুন্নাসহ তিন থেকে চারজন মিলে কৌশলে ইমনকে শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ইমনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তার ব্যবহৃত আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল থেকে সাজিদুল ইসলাম মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি মো. ওমর ফারুক জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে যে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে কয়েকজন বন্ধু মিলে ইমনকে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে র্যাব থানায় হস্তান্তর করেছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।