ঢাকার উত্তরায় নিজের মালিকানাধীন মার্কেটে রিকশা চালককে হত্যার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দােিবকেরে মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) দাবি করেছেন, মব সৃষ্টি করে মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
তার অভিযোগ, গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর ও বিভিন্ন দোকানের মালামাল লুট করা হয়েছে।এরআগে রোববার রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর একটি শপিং মলে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর শপিং মলের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন রিকশাচালকেরা। পুলিশ বলেছে, কোনো রিকশাচালক নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি গুজব হতে পারে বলছে পুলিশ।
উত্তরা–১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মলের সামনে রোববার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ উত্তেজনা সোমবার সকালেও ছিলো। এই মার্কেটের মালিক মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজী মুজিব।
এ ঘটনার সোমবার মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, এক রিকশাচালকের সাথে মার্কেটের সিকিউরিটি সদস্যের বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এই ঘটনার পর তারা অনেক লোক নিয়ে এসে মার্কেটে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। আমরা তখন পুলিশ ডাকলে পুলিশ এসে তাদের ৪/৫ জনকে আটক করে। এরপরই তারা গুজব ছড়ায় মার্কেটের ভেতরে এক রিকশাচালককে হত্যা করা হয়েছে। তখন পুলিশ-সেনাবাহিনী তাদের নিয়ে মার্কেটে তল্লাশী চালিয়েও হত্যার কোন আলামত পায়নি।
মুজিবুর বলেন, এরপর মব সৃষ্টি করে ৪/৫ শ’ লোক নিয়ে মার্কেটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। কয়েকটি দোকানে ছিনতাই করা হয়েছে। এতে রিকশা চালকদের সাথে আশপাশের ছিনতাইকারীরাও অংশ নেয়।
তিনি বলেন, ভাঙচুরকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পুলিশ তাদের ঠেকাতে পারেনি। পরে সেনাবাহিনী এসে থামিয়েছে। সেমবারও আবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়।
ভাঙচুরে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আজকেই এব্যাপারে মামলা করব।
এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, একটি শপিং মলের সামনে রিকশা দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকদের মধ্যে গতকাল রাতে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের অভিযোগ, শপিং মলের নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে এক রিকশাচালককে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে ওই রিকশাচালকের পরিচয় কেউ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
রিকশাচালককে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত রিকশাচালক শপিং মলের সামনে জড়ো হন। শপিং মলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় শপিং মলের সামনের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন রিকশাচালকেরা।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। পরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে যান।