সিলেট শামসুদ্দিন হাসপাতালে মিলছে না সরকারি ওষুধ, রোগীদের হাহাকার
সিলেটের সরকারি চিকিৎসা সেবা খাতে চরম অব্যবস্থাপনা ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৫ টাকায় টিকেট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে তার কাঙ্খিত ওষুধ পাচ্ছে না। বিশেষ করে শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালসহ বেশ কিছু সরকারি হাসপাতালে গত তিন মাস ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীরা, যারা পুরোপুরি সরকারি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ (প্রেসক্রিপশন) মিললেও ওষুধ কিনতে হচ্ছে চড়া দামে বাইরের ফার্মেসি থেকে, যা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়াবেটিস-কোলস্টেরলসহ আরও নানান শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন চিকিৎশা ও ঔষধের জন্য।
এ লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবদান ছিল সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল থেকে পাওয়া বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এসব ওষুধ মূলত একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় সরবরাহ করা হতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ওই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত তিন মাস ধরে নতুন কোনো ওষুধের চালান আসেনি। ফলে মজুত থাকা ওষুধ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলো এখন শূন্য হয়ে পড়েছে। সরকারি ওষুধ না পেয়ে অনেক সাধারণ ও বেকার শ্রমজীবী মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৫ টাকায় টিকেট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে তার কাঙ্খিত ওষুধ পাচ্ছে না। এ বিষয়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আর ওষুধ আসেনি। আমরা যথাযথভাবে চাহিদা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, কিন্তু সরবরাহ নেই প্রতিদিন শত শত রোগী ওষুধের জন্য এসে ফিরে যাচ্ছে। রোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক কথা বলছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের হাতে কোনো ওষুধ নেই।