জৈন্তাপুরে পাহাড়-টিলা কেটে মাটি সরবরাহ,কার ইশারায় চলছে ধ্বংসযজ্ঞ?
জৈন্তাপুর উপজেলা-এর নিজপাট ইউনিয়নের নয়াগাতি ও বড়গাতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলেছে পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র যন্ত্রদানব এস্কেভেটর ব্যবহার করে একের পর এক টিলা ধ্বংস করে সেই মাটি সরবরাহ করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড-এ।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করলেও বাস্তবে পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। অভিযান শেষ হলেই পুনরায় শুরু হয় মাটি উত্তোলন। প্রশ্ন উঠেছে—কার ছত্রছায়ায় চলছে এই কার্যক্রম?
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিনে বন্ধ থাকলেও রাতে আবার মেশিন নামে। কয়েক মাসে কয়েকটি টিলা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় ও টিলা নির্বিচারে কাটা হলে মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, বাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকি, কমে যায় জীববৈচিত্র্য। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলছেন, “এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে এলাকা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যাবে। প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।
বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনে পাহাড় ও টিলা কাটার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে বাস্তবে কেন কার্যকর হচ্ছে না আইন—এ প্রশ্ন স্থানীয়দের।
মাটি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা কীভাবে অনুমোদন পাচ্ছে? পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না-তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।সিলেটের জেলা প্রশাসক সরোয়ার আলম-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, নিয়মিত মনিটরিং, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।