বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

হজে বিধি লঙ্ঘন করলেই গুনতে হবে বড় জরিমানা

ডেস্ক / ৯০ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
হজে বিধি লঙ্ঘন করলেই গুনতে হবে বড় জরিমানা

হজে বিধি লঙ্ঘন করলেই গুনতে হবে বড় জরিমানা

আসন্ন ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। পবিত্র হজের মর্যাদা রক্ষা এবং হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও অনুমতি ছাড়া হজ পালনকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে হজের নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা ও দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন কঠোর শাস্তির কথা জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ জিলকদ (১৯ এপ্রিল) থেকে ১৪ জিলহজ পর্যন্ত যেকোনো ধরনের ভিজিট বা ভ্রমণ ভিসাধারী ব্যক্তির মক্কায় প্রবেশ এবং অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে হজ পালনের চেষ্টা করেন বা নির্দিষ্ট সময়ে মক্কায় অবস্থান করেন, তবে তাকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে।
সবচেয়ে বড় অংকের জরিমানা গুনতে হবে সেসব ব্যক্তিদের, যারা অবৈধভাবে কাউকে মক্কায় নিয়ে আসবেন। পরিবহনকারী বা দালালদের ক্ষেত্রে ১ লাখ রিয়াল জরিমানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যানবাহন বাজেয়াপ্ত করারও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই জরিমানার পরিমাণ ব্যক্তির সংখ্যার অনুপাতে কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে আবাসন খাতের ওপরও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট বা ব্যক্তিগত বাসস্থানে অনুমতি ছাড়া কাউকে আশ্রয় দিলে বা লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা মালিককেও ১ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হবে। সৌদি আরবে অবস্থানরত অভিবাসী বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ব্যক্তিরা যদি অবৈধভাবে হজে অংশ নেন, তবে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং পরবর্তী ১০ বছর তাদের সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি মনে করেন তারা অন্যায্যভাবে শাস্তির শিকার হয়েছেন, তবে তারা ৩০ দিনের মধ্যে প্রশাসনিক আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আপিল করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া পবিত্র হজের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে যেকোনো আইন লঙ্ঘনকারীর তথ্য ৯১১ নম্বরে কল করে জানানোর জন্য নাগরিক ও প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মূলত বিশ্বজুড়ে আসা লাখ লাখ হাজিদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতেই প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি সরকার এমন কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। কোনো প্রকার অনুমোদন বা পারমিট ছাড়া হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ না নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

 


এই বিভাগের আরো খবর