লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কোরবানির জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে খাসী ছাগলের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন করে মুখোমণ্ডল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা ভুক্তভোগী গৃহবধূ সুমি আক্তারকে গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুক্তভোগী গৃহবধূর উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
গৃহবধূর আত্মীয় হাসান হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সুজন গ্রামের ভুক্তভোগীর শ্বশুরবাড়ি কমড়উদ্দিনের বাড়িতে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে।
আহত সুমি আক্তার পাশ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ চিডুর কন্যা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমির পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুক এবং কোরবানীর জন্য একটি বড় খাসি ছাগল দাবি করে আসছিল। সুমির দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই দাবি মেটানো সম্ভব হয়নি।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার সকালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমির ওপর নির্মম ও অমানুষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে পাষণ্ডরা সুমির মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এলাকায় গিয়ে তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অপরদিকে গৃহবধূর ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অপরাধী স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজুসহ ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।