বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

স্পোর্টস ডেস্ক / ৫৪ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
Oplus_0

বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউইয়র্ক স্টেট প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, জরুরি ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা খাতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই- নিউইয়র্কবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।
৪ জুন অনুষ্ঠিত এক যৌথ ব্রিফিংয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বিশ্বকাপ চলাকালে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাদের মতে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে লক্ষাধিক দর্শক ও পর্যটক নিউইয়র্কে আসবেন। সেই বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

মেয়র মামদানি বলেন, ‘বিশ্ব যখন নিউইয়র্কের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়াবে, তখন আমরা প্রস্তুত থাকব। উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শেষ বাঁশি বাজার পর পর্যন্ত নগরবাসী ও দর্শকদের নিরাপত্তা ও সেবাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
গভর্নর হোকুল বলেন, ‘নিউইয়র্কের গণপরিবহন-ব্যবস্থা প্রতিদিন লাখো মানুষকে নিরাপদে বহন করে। বিশ্বকাপ আমাদের জন্য এক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ। আমরা সবাইকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রস্তুত।’

বিশ্বকাপ চলাকালে ম্যানহাটনের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। নিউইয়র্ক সিটি, নিউজার্সি ও আয়োজক কমিটির সমন্বয়ে ম্যাচের দিন ৪২ স্ট্রিট, ফিফথ ও সিক্সথ অ্যাভিনিউয়ের কিছু অংশ এবং ৪০ ও ৪১ স্ট্রিটে বিশেষ ট্রাভেল করিডর চালু থাকবে। খেলা শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে থেকে এবং খেলা শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত এসব এলাকায় কেবল বিশ্বকাপ শাটল বাস, এমটিএ বাস, অফিশিয়াল ফিফা যানবাহন ও জরুরি সেবার যান চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া প্রতিটি ম্যাচ দিবসকে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট ডে’ ঘোষণা করা হবে। প্রশাসন ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে উৎসাহ দেবে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যস্ত সময়ে ট্রাক ডেলিভারি সীমিত রাখার আহ্বান জানাবে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন মিডটাউন এলাকায় ১০০-এর বেশি কর্মী মোতায়েন করবে। তারা অস্থায়ী বাস লেন স্থাপন, ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে গণপরিবহন-ব্যবস্থাও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে। ম্যাচের দিন অতিরিক্ত সাবওয়ে ট্রেন চালানোর পাশাপাশি পেন স্টেশন ও গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল থেকে কমিউটার রেল সার্ভিস বাড়ানো হবে। বিশেষ করে ওয়ান, সি ও এফ লাইনে অতিরিক্ত ট্রেন চলবে, যাতে দর্শকেরা সহজে স্টেডিয়ামমুখী শাটল বাসে সংযোগ নিতে পারেন।
ফ্লাশিংয়ের ইউএসটিএ বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে স্থাপিত ফ্রি ফ্যান জোনে যাতায়াত সহজ করতে ৭ নম্বর ট্রেনের অতিরিক্ত সার্ভিসও চালু করা হবে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে ম্যাচের দিন মিডটাউন এলাকার সব ধরনের পরিকল্পিত সাবওয়ে মেরামত কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনওয়াইসি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট ইতোমধ্যে জরুরি অপারেশন সেন্টার সক্রিয় করেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা কিংবা অন্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় এই ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। হারিকেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, থ্যাংকসগিভিং প্যারেড ও টাইমস স্কয়ারের নববর্ষ উদ্্যাপনের সময় ব্যবহৃত সফল মডেলের ভিত্তিতেই এ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, অবকাঠামো, মানবসেবা ও আঞ্চলিক সমন্বয়সহ বিভিন্ন খাতে পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কবাসী ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ এসএমএস সতর্কতা সেবাও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইংরেজি, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষায় জরুরি বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পাওয়া যাবে।স্বাস্থ্যসেবা খাতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে স্বাস্থ্য বিভাগ ও এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালস যৌথভাবে একাধিক মহড়া ও সিমুলেশন পরিচালনা করেছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ মোকাবিলায় সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুশীলনেরও আয়োজন করা হয়েছে। সংক্রামক রোগ দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরমের সময় ১১টি হাসপাতালকে কুলিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বিশ্বকাপ চলাকালে ফায়ার ডিপার্টমেন্ট শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন করবে। দর্শকদের ভিড় এবং তাপপ্রবাহজনিত জরুরি কল বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় অতিরিক্ত ইএমএস কর্মীও দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে স্যানিটেশন বিভাগ ট্রানজিট হাব, ফ্যান জোন এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করবে।সিটি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্ক আগেভাগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো, শক্তিশালী গণপরিবহন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ক্রীড়া আয়োজনকে সফল করতে তারা সর্বাত্মক প্রস্তুত। নিউইয়র্ক এখন বিশ্বকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায়।


এই বিভাগের আরো খবর