২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৯টি শিশু। নতুন করে শত শত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হওয়ায় দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চাপ আরও বেড়েছে।
আজ ১০ জুন (বুধবার) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯২ শিশু। সব মিলিয়ে প্রায় তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে দেশে মোট ৬৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৪৫ শিশু। ফলে এক দিনে মোট আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৯ জনে। হাসপাতালভিত্তিক পরিস্থিতিও এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮২৯ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৫৩ জন। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসায় শিশু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। এই সময়ে মোট ৬৬ হাজার ৯৯৯ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩ হাজার ১৪৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কয়েক হাজার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, সচেতনতামূলক প্রচার এবং আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবুও প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।