বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

ইরানের হয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্কের যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা ছিল: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১২৪ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
ইরানের হয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্কের যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা ছিল: ট্রাম্প

ইরানের হয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্কের যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা ছিল: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এ সম্ভাবনাকে থামিয়ে দেয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি পরাশক্তি রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলেও জানান। শক্তিশালী তিন দেশের যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার বিষয়টিকে তিনি অবিশ্বাস্য ও চমকপ্রদ এক কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় বিশ্বের প্রভাবশালী তিন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সফল কূটনীতির কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন।তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ইরান সংকটের সময় শক্তিশালী এ তিন দেশের নিরপেক্ষ অবস্থান মূলত বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। এ দেশগুলোর অসামরিক ও দূরদর্শী মনোভাবের কারণে তিনি তাদের নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ মূল্যায়ন জ্ঞাপন করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এ যুদ্ধ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রেখেছিলেন। তিনি এ যুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি অংশ নেয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বা প্রধান দাবিদার ছিলেন। কারণ আপনারা সবাই জানেন যে, তিনি ইসরায়েলকে খুব একটা পছন্দ করেন না।

আমি তাকে এ সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আমার সে অনুরোধ রেখেছেন।তিনি এরদোয়ানকে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও চমৎকার সামরিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন বিশ্ব নেতা হিসেবেও অভিহিত করেন। এর পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতিও নিজের সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চীনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, আপনারা কি জানেন, এ সময়ে আর কে সবচেয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছেন? তিনি হলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি চাইলে খুব সহজেই এ যুদ্ধে অংশ নিতে পারতেন। কারণ তার দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় অর্ধেক অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চল থেকে। আমি তার অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে তাকে এ যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তিনিও সে অনুরোধ রক্ষা করেছেন।

রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বড় এ সংঘাত থেকে নিজের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি সরিয়ে রেখেছিলেন বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আসলে পুতিনও এ যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন। তবে যদি আপনারা বাস্তবিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন, তাহলে বলতেই হবে যে, ভ্লাদিমির পুতিনের এইমুহূর্তে মনোযোগ দেয়ার মতো আরও কিছু নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা অন্য কাজ রয়েছে। তবে মূল কথা হলো, তারা সবাই এ যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি বাইরে ছিলেন। যা সত্যিই বেশ দারুণ এবং একটি বেশ আশ্চর্যজনক বিষয়।


এই বিভাগের আরো খবর