বিশ্বকাপে মেক্সিকোর উড়ন্ত ফর্ম যেন থামছেই না। গ্রুপ পর্বের টানা তিন জয়ের পর এবার শেষ ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইকুয়েডরকে বিদায় করে দিল তারা। ঘরের মাঠে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিলো টুর্নামেন্টের এই সহ-আয়োজক দেশটি। ম্যাচের প্রথমার্ধেই মেক্সিকোর পক্ষে জয়সূচক গোল দুটি আসে। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে চমক দেখানো ইকুয়েডরের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ ৩২-এই থমকে গেল।
আজ বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। মেক্সিকান ফরোয়ার্ডদের একের পর এক ক্ষুরধার আক্রমণে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। ম্যাচের ২২তম মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন জুলিয়ান কুইনোনেস। এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বাঁদিক দিয়ে মাঠের অনেকাংশ একক দৌড়ে ইকুয়েডরের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে ডানপায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
মেক্সিকোর দ্বিতীয় গোলেও ছিল কুইনোনেসের বড় অবদান। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে তাঁর বাড়ানো চমৎকার এক পাস থেকে দলের ব্যবধান ২-০ করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। এই দুই গোলের পর প্রথমার্ধেই আরও কিছু সহজ সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো, তবে ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ব্যবধান আর বাড়েনি।
দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইকুয়েডর। বল দখলে মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে তারা একের পর এক ছোট ছোট আক্রমণ সাজাতে থাকে। তবে মেক্সিকোর জমাট রক্ষণভাগের সামনে তাদের সব আক্রমণই ভেস্তে যায়। অপরদিকে, ইকুয়েডর যখন অল-আউট আক্রমণে ব্যস্ত, তখন বল পেলেই বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখছিল মেক্সিকো।
ম্যাচের শেষ দিকে এসে চরম হতাশায় ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইকুয়েডর। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিজেদের জালে কোনো গোল জড়াতে দেয়নি মেক্সিকান ডিফেন্স।