ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার জন্য ছয় দিনের সময় দিয়ে চূড়ান্ত উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়েছে। দেশের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) এই স্থাপনাটিকে ‘অননুমোদিত’ দাবি করে নোটিশটি দেয়। এর আগে গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিল।
দিল্লি গেজেট এবং এনডিএমসির নিজস্ব হালনাগাদ ওয়েবসাইটের তালিকা অনুযায়ী রেসকোর্স মসজিদটি একটি স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এমনকি ২০২১ সালের সরকারি জরিপেও এটিকে কোনো অবৈধ বা অননুমোদিত দখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে বর্তমানে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর দাবি করছে, এটি সরকারি জমিতে অবস্থিত এবং এর ঐতিহ্যবাহী তকমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন এক ভিডিওবার্তায় অভিযোগ করেছেন, গত ছয় মাস ধরে বারবার আকুতি জানানো সত্ত্বেও দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তারা নিজেরাও আদালতে যায়নি, আবার ইমামকেও আদালতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। বর্তমানে বিদ্যুৎ-পানি না থাকায় এবং মসজিদে যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ করে দেওয়ায় সেখানে নামাজ আদায় ও অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ঐতিহাসিক এই মসজিদ ও এর সংলগ্ন প্রাচীন কবরস্থানটি রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে। সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার এবং সমাধানের সম্ভাব্য চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি মূলত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন রেসকোর্স রোড এলাকা পুনর্গঠনের একটি অংশ। গত সোমবার দিল্লি হাইকোর্ট ওই এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করারও অনুমতি দিয়েছেন। তবে আদালত উচ্ছেদ হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে পুনর্বাসন এলাকায় শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।