বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

মায়ের দেওয়া বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২০ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
মায়ের দেওয়া বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা করলো কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলি চালিয়ে তিন শিশু ও এক শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ১৬ বছর বয়সি হামলাকারী গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয়কে তার মা জন্মদিনের উপহার হিসেবে বন্দুকটি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে, হামলার পেছনের কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীর মা শনটাই নিকারসন ২০২৬ সালের আগস্টে আইন মেনে একটি ‘ম্যাভেরিক ৮৮’ পাম্প-অ্যাকশন ১২-গেজ শটগান কেনেন। পরে বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য তিনি সেটি ছেলে গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয়কে জন্মদিনের উপহার হিসেবে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত বৃহস্পতিবার ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ১৬ বছর বয়সি ওই কিশোর। একসময় সে ওই বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করেছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে ঢোকার আগে জন একটি চলন্ত পিকআপ ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই গাড়ির চালকই প্রথম জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।এরপর তালাবদ্ধ কাচের দরজায় গুলি করে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারী। দরজা দিয়ে ঢুকে বাঁ পাশের প্রথম শ্রেণিকক্ষে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সে। এতে তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।

হামলায় নিহত তিন শিশুর একজন পাঁচ বছর বয়সি রোয়াম সামার। নিহত অন্য দুই শিশুর বয়স ছিল ৮ ও ১১ বছর। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সি শিক্ষক মেগান ল্যামবার্টও।পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় সাত বছর বয়সি এক ছাত্রী এবং ৫৪ বছর বয়সি আরেক শিক্ষকও আহত হয়েছেন।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় শ্রেণিকক্ষটিতে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ভেতরে এক শিক্ষক হামলাকারীর কাছ থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় দুই শিক্ষার্থীর বাবা জিয়ামাঙ্কো সেখানে প্রবেশ করেন এবং গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে হত্যা করেন।হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কিশোরটি কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হামলায় নিহত তিন শিশুর মধ্যে একজনের শোকাহত অভিভাবকেরা ইতিমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। তারা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাবিধি, হামলা ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা ছিল এবং হামলাকারী কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে চান।এদিকে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এ ঘটনায় কোনো আইনগত দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন কৌঁসুলিরা।তদন্তে হামলার উদ্দেশ্য, অস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর