বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্দামান সাগর থেকে এগিয়ে আসা একটি আবহাওয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতি পেলে মাসের শেষ দিকে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিস্টেমটি ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেয়নি ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।
অক্টোবর ও নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল সময়। ফলে নতুন এই আবহাওয়া ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে নজর রাখছেন আবহবিদেরা।
কখন তৈরি হতে পারে নিম্নচাপ?
আইএমডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, থাইল্যান্ড উপসাগর ও সংলগ্ন মিয়ানমার এলাকায় তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত গত ২১ অক্টোবর রাতে উত্তর আন্দামান সাগরে প্রবেশ করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই আবহাওয়া ব্যবস্থা পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এর প্রভাবে আজ ২৩ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে অন্য কয়েকটি আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, ২৪ বা ২৫ অক্টোবর আন্দামান অঞ্চলে নিম্নচাপটি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর অনুকূল পরিবেশ পেলে সিস্টেমটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরদিন ২৬ অক্টোবরের মধ্যে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলছে কিছু পূর্বাভাস।
আন্তর্জাতিক কয়েকটি আবহাওয়া মডেল অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের দিকে সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) ২০ অক্টোবর প্রকাশিত তাদের ‘গ্লোবাল ট্রপিক্যাল হ্যাজার্ডস আউটলুক’-এ আগামী সপ্তাহে ওই অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির ৬০ শতাংশ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
এ ছাড়া ভারত মহাসাগরে সক্রিয় ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন (এমজেও) ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোন দিকে এগোতে পারে ঘূর্ণিঝড়?
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আবহাওয়া ব্যবস্থাটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূলের দিকে বাঁক নিতে পারে।তবে এর গতিপথ নির্ভর করবে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় এবং বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের বায়ুপ্রবাহের অবস্থানের ওপর। ফলে শেষ পর্যন্ত এটি কোন উপকূলে আঘাত হানতে পারে কিংবা কতটা শক্তিশালী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের জন্যও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টির বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। সিস্টেমটির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের সাথে সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ওডিশায় বৃষ্টির সতর্কতা
সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের ওডিশা রাজ্যে বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর রাজ্যটির উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।২৬ অক্টোবর বালেশ্বর, ভদ্রক, যাজপুর, কেন্দ্রাপাড়া, কটক, জগৎসিংহপুর, পুরী, খুরদা, নয়াগড়, গঞ্জাম ও গজপতি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তামিলনাড়ু ও কেরালায় ভারী বৃষ্টি
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ভারতের তামিলনাড়ু উপকূলের কাছে অবস্থানরত আরেকটি নিম্নচাপও সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় তামিলনাড়ু ও কেরালার বিভিন্ন এলাকায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। রায়লসীমা অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চেন্নাইসহ কয়েকটি জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইক্যাল ও কেরালায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।এ ছাড়া লাক্ষাদ্বীপ, দক্ষিণ কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।