সিলেট মহানগরের জিন্দাবাজারে ঘটেছে এমন ঘটনা।
জানা গেছে, মহানগরের জিন্দাবাজারস্থ সিটি শপিং মল সিটি সেন্টারের সামনে দুপুর ১২টার দিকে মো. শফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার নয়াগ্রামের আবু আহমেদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা- শফিকুল ইসলাম হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সিটি সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মী সাগর দেবনাথ বলেন- ওই যুবক ফুটপাতে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। আমরা কয়েকজন তাকে ধরে সিটি সেন্টারের সামনের খালি জায়গায় নিয়ে আসি। এখানে নিয়ে আসার পর তিনি কয়েকবার শ্বাস নেন। এসময় আমরা তাকে সামান্য পানি পান করাই। পরে তিনি শ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দেন। আমাদের ধারণা- তিনি এখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে ওই যুবকের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন থেকে এক স্বজনের নাম্বার বের করে কল দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার এক স্বজন এখানে এসে তাকে নিয়ে যান। তবে কোনো হাসপাতাল নাকি বাড়িতে নিয়ে গেছেন সেটি আমরা জানি না।
পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামের বড় ভাই মো. জহিরুল ইসলামের মুঠোফোন নাম্বার আসে কাছে। তিনি জানান- তার ভাই (শফিকুল) মারা গেছেন। তারা সিটি সেন্টার থেকে উদ্ধার করে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জহিরুল জানান- শফিকুল সিলেট মহানগরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা- তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এ বিষয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন- ওই যুবককে আমাদের এখানে মৃত অবস্থায়ই নিয়ে এসেছেন পরিবারের লোকেরা। আমরা পরীক্ষা করে মৃত পেয়েছি। তবে মৃত্যুর কারণ আমরা বলতে পারবো না। পরিবারের সদস্যরা আমাদের শুধু বলেছেন- মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন। এর উপর ধারণা করে পরীক্ষা না করে আসলে আমরা কিছু বলতে পারি না।
এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন সিপন বলেন- খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্ন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী তার টিম নিয়ে সিটি সেন্টারে গিয়ে ওই যুবককে পাননি। আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য,সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানিয়েছেন- আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩ টায় সিলেটে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।