পানিবন্দি ৬ লক্ষাধিক মানুষ,সিলেটে বন্যার অবনতি
এবারের ঈদ মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঈদের আগ থেকে পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিপাতে সিলেটে পানিবন্দি রয়েছেন ৬ লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সময় যত যাচ্ছে বানভাসি মানুষের মাঝে ভয় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে কিছু সংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে, বেশির ভাগই মানুষজন নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক নন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পাড়াপ্রতিবেশিদের উঁচু বাসায় বা আত্মীয় স্বজনের বাসায়। ইতোমধ্যে সিলেটের সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
টানা ভাড়ি বর্ষণে সুরমা নদীর পানি ছাড়াও নালা উপচে প্রবেশ করছে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়। তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ঘর থেকে বাইরে বের হতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়। সিলেট মহানগরীতে ৫০ হাজার মানুষ রয়েছেন পানি বন্দি। এছাড়াও সিলেটের ১৩টি উপজেলার ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৭ জন পানি বন্দি রয়েছেন।
এমনটাই মঙ্গলবার দিবাগত জানিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসনের সূত্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, অমলসীদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি ৪৭ সেন্টিমিটার ও একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জে ৮৮ সেন্টিমিটার নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে। এছাড়াও সারি গোয়াইনের পানি ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৮জুন) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানান সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো.সজীব হোসাইন।
জানা যায়, গত ২৭ মে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। এতে জেলার অন্তত সাড়ে ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। ৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে ঈদের আগের দিন রোববার (১৬মে) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিতে আবার সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। এতে করে নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, বরইকান্দি, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।
এছাড়াও জেলার গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।