যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও লেবাননজুড়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নিহতের সংখ্যা ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানী বৈরুতে হামলা শুরু হয়।
গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধাবসানের দিকে পরিচালনা করা নিয়ে আলোচনা ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গতকাল বুধবার লেবাননজুড়ে শতাধিক বিমান হামলা পরিচালনা করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল বৈরুতে, যেখানে ৯১ জন নিহত হয়েছেন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে জানিয়েছে এবং বলেছে যে এটি চূড়ান্ত সংখ্যা নয়।
সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে যে ১০ মিনিটের মধ্যে তারা লেবাননের শতাধিক স্থাপনায় বুধবার হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি লেবাননে চালানো তাদের সর্ববৃহৎ হামলা বলে আইডিএফ নিশ্চিত করেছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে চালানো ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বশেষ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৮৩৭ জন। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় দেশটির আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নীতিগত সমর্থন জানালেও লেবাননকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে আসা যাতে দেশটি আর কোনোভাবেই পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি তৈরি করতে না পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এদিকে হিজবুল্লাহ বুধবার ভোরেই ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করে দিয়েছে বলে দলটির ঘনিষ্ঠ তিনটি লেবানিজ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আল-মুসাউই রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে এটি যুদ্ধবিরতির অংশ—তাই আমরা তা মেনে চলেছি, কিন্তু ইসরায়েল বরাবরের মতোই তা লঙ্ঘন করেছে এবং সারা লেবানন জুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে।’