শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

ফাহিমা হত্যা: অভিযুক্ত জাকিরের বাড়ি ফের ভাঙচুর এলাকাবাসীর

প্রতিবেদক / ৫৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
ফাহিমা হত্যা: অভিযুক্ত জাকিরের বাড়ি ফের ভাঙচুর এলাকাবাসীর

সিলেটে শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাকির হোসেনের বাড়িঘর আবার ভাঙচুর করেছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার বিকেলে সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন সোনাতলা এলাকার জাকিরদের বাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এরআগে ১১ মে রাতে জাকির গ্রেপ্তারের পর এক দফা এই বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিলো।

ওই রাতেই জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর চার বছরের শিশু ফাতেমা ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার কথা স্বীকার করেন জাকির।

জানা যায়, ফাতিমা হত্যার দ্রুত বিচার ও জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে শুক্রবার দুপুরে মানববন্ধন করেন বৃহত্তর সোনাতলা এলাকাবাসী।

প্রায় একইসময়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন গ্রেপ্তার হওয়া জাকিরের ভাই জয়নাল আবেদিন জয়।প্রথমদফা তাদের বাড়ি ভাঙচুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি ফেসবুকে লিখেন- আমার ঘর আমাদের আশ্রয়স্থল কারা কে বা ভাংচুর করেছেন, ‘এটাতো কোনও মানুষের কাজ হতে পারে না। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হউক আমিও চাই। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনারা আমার ঘর যারা ভাংচুর করেছে লুটপাট করেছে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের কে আইনের আওতায় আনা হউক’।

জাকিরের ভাই আরও লিখেন, ‘আমাদের ঘর ঘরের ভিতরে ৬০ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে নগদ টাকা রয়েছে ৮ লাখ টাকা ঘর বানাতে লেগেছে আরও ২০ লাখ টাকা সর্বমোট আমাদের ৮৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি’।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে জাকিরের ভাইয়ের এমন পোস্টের পর এলাকার মানুষজন বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠেন। তারা গিয়ে আরেকদফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভাঙচুরের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, অর্ধ শতাধিক লোক মিলে আধাপাকা বাড়িটি ভাঙচুর করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করেছে। কেউ কেউ টিনের চালে উঠেও ভাঙচুর চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিবের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযেগর চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এরআগে গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।


এই বিভাগের আরো খবর