সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন

উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে খন্দকার মুক্তাদির

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৪৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে খন্দকার মুক্তাদির

নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে সিলেট। উন্নয়নও থমকে গেছে। অন্তর্র্বতী সরকারেরও সিলেটের দিকে তেমন নজর নেই। না পাওয়ার যন্ত্রণায় রয়েছেন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ। বিগত সরকারের বৈষম্য এখন ভোগাচ্ছে মানুষকে। এই অবস্থায় ‘আগামী সিলেট’ ভাবনা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। এখান থেকে বের করতে হবে প্রবাসীর অধ্যুষিত এ এলাকাকে। এজন্য নির্বাচনী মাঠে প্রচারণার পাশাপাশি উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা শুরু করেছেন মুক্তাদির। তার ভাবনার সমাপ্তি এখনো ঘটেনি। বিএনপি নেতারা বলছেন; সিলেট উন্নয়ন নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এখনো মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। ইতিমধ্যে অনেক বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছে। সুরাহা বের করে রেখেছেন। যদি বিএনপি ক্ষমতায় যায় তাহলে তিনি এসব ভাবনার প্রতিফলন করবেন। তার আগে তিনি হোমওয়ার্ক সেরে নিচ্ছেন। সিলেট-১ আসনটি হচ্ছে মর্যাদার আসন। এ আসনের ভোটাররাই জেলার উন্নয়ন নিয়ে বেশি চিন্তিত। ফলে উন্নয়ন ভাবনাকে সামনে রেখে তিনি এগোচ্ছেন। এরই মধ্যে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির কথা বলেছেন।

তিনি নিজেও সিলেট উন্নয়ন নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। সিটি করপোরেশনে কাজ হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব ছিল। মেয়র বিএনপি’র হলেও সরকারের কাজ নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। এখনো আছে। সিলেট একটি মেগা সিটি। পরিধি অনেক বেড়েছে। এখনো অনেক এলাকায় নগরের ছোঁয়া লাগেনি। ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাডে ডুবে যায় নগর। এমনটি আগে হতো না। নতুন করে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। নাব্য হারাচ্ছে সুরমা। উজানের ঢল নামলে ফুঁসে ওঠে দ্রুত। নাগরিক সমস্যা প্রকট। জলাবদ্ধতা রয়েছে। একইসঙ্গে সুরমার পানিও উপচে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের সমাপ্তি হয়নি। জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন ভঙ্গুর। রাস্তাঘাটের অবস্থা শোচনীয়। অন্তর্র্বতী সরকারের সময় কিছু কাজ হচ্ছে। সেগুলো পর্যাপ্ত নয়। কিছু কাজ অনুমোদন হয়েছে। টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। কাজ শুরু করতে সময় লাগবে। গলার কাঁটা আছে অনেক কিছুই। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে আটকে আছে। ফের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও বিলম্ব হচ্ছে। সিলেট প্রবাসী শহর। প্রবাসীদের চিন্তাভাবনায় এটি হবে উন্নত শহর। সাবেক মেয়র আরিফ একটি পর্যায়ে রেখে গেছেন।

বাদাঘাট বাইপাস সড়কের কাজে ধীর গতি। এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার বিকল্প সড়কও খোঁজ হচ্ছে না। দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব মাধ্যমেই সিলেট পিছিয়ে। সড়ক পথ এখন গলার কাঁটা। বিগত সরকার প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত হচ্ছে না। এখন সড়ক পথে সহজেই কেউ যাতায়াত করতে চান না। রেলপথ মান্দাতার আমলের। ডাবল লাইন করা হচ্ছে না। আকাশ পথ বিমানেই আটকা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অন্য কোম্পানির উড়োজাহাজ নেই। বিমান সিলেটের সঙ্গে বিমাতা সুলভ আচরণ করছে। শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে সিলেট। ইন্ডাস্ট্রিয়ালের যুগে ঢুকতে পারছে না সিলেটের বিনিয়োগ। প্রবাসীরা এখানে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু পদে পদে বাধা। বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বেশি। এ কারণে প্রবাসী বিনিয়োগও দিন দিন কমছে। এসব ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন সিলেট-১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির। এ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন- অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে সিলেট। বিশেষ করে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সবার আক্ষেপ রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট সড়ক পথে কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। রেলপথকে যাত্রীবান্ধব করতে হবে। একইসঙ্গে ঝুঁকি এড়াতে যা করার প্রয়োজন সব করতে হবে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে গতিশীল করতে হবে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনা করে এই বিমানবন্দরের আটকে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সিলেটের শিক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শিক্ষিত জনশক্তি বাইরে রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে হবে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত।


এই বিভাগের আরো খবর