মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে

ডেস্ক / ৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই নিজের শ্যালিকাকে বিয়ে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন নওগাঁর এক টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী। এ বিয়েকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছাড়তে হয়েছে তাকে। অভিযোগ রয়েছে, মহাদেবপুরে তার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরাম গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করার বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে ভাড়া বাসায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছাড়েন মাসুদ রানা (৩৫)। পরে তিনি মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার দুই স্ত্রী মৌসুমী ও পূর্ণিমার বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ রানা। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমতি নিয়েই এ বিয়ে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিয়ের পর তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করলে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় নানা আলোচনা।

এরপর বদলগাছী এলাকার কয়েকজন তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছাড়েন মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা। তারা মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।তবে সেখানেও পরিস্থিতি শান্ত থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টার দিকে মাতাজি বিরাম গ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানাকে মুখে চুন-কালি মেখে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনা ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের ভাষ্য, এ কারণেই তারা মাসুদ রানাকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি।দুই বোনকে একই সময়ে বিয়ে করার বিষয়ে ইসলামী বিধান জানতে চাইলে মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার ভাষ্য, একজন নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিয়ে করা যায় না। তবে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় মাসুদ রানা বলেন, তার শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাদের আগে ধারণ করা ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পূর্ণিমা হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। এ কারণেই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


এই বিভাগের আরো খবর