সিসিক নির্বাচন ঈদের পর
সিটি কর্পোরেশনগুলো চলছে প্রশাসকের মাধ্যমে। তবে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে সরকার। ঈদের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটে বিএনপির অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন নগরজুড়ে একটাই আলোচনা- কে হচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)-এর পরবর্তী নগরপিতা?
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের ২১ জুন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
জনপ্রতিনিধি না থাকায় নগরবাসীকে নানা সেবায় দীর্ঘসূত্রিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে নাগরিকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দ্রুত নির্বাচনের আশ্বাস
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এ লক্ষ্যে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ বাকি সিটি কর্পোরেশনগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে এই সিটির মোট জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিসিকের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনের আওতায় থাকা ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন এবং সিলেট-৩ আসনের আওতায় থাকা ৬টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।
সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে বিএনপির বিজয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরেও তাদের প্রস্তুতি চলছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা
প্রশাসকের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে সেবা নিতে গিয়ে ক্লান্ত নগরবাসী এখন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায়। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আবারও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে— এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।