রোববার সন্ধ্যাার দিকে কাতারের শিল্পশহর রাস লফ্ফানের বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেড নামের একটি গ্যাস কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে।
যার তীব্রতায় রাজধানী দোহাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক ঘরবাড়ির দরজা ও জানালা জোরে কেঁপে ওঠে।
কাতারের রাষ্ট্রয়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জি এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়েই রোববার রাতে পৃথক বিবৃতিতে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। আরও বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা (সিভিল ডিফেন্স) বাহিনীর উদ্ধারকর্মীদের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং নিখোঁজদের সন্ধান পেতে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং অনেকেই প্রাথমিক মুহূর্তে এটিকে শক্তিশালী ভূমিকম্প কিংবা নতুন কোনো সামরিক হামলা বলে ভুল করেছিলেন।
তবে কাতার কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে রাসলাফফান গ্যাসক্ষেত্রের দুর্ঘটনাস্থলের বাইরে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস বা অন্য কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান লিক হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে কারখানা ভবন থেকে বড় ও ভারী কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি উঠতে দেখা গেছে। রাস লাফফানের বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের জেরে সৃষ্ট আগুনের লেলিহান শিখা ২০ কিলোমিটার দূর থেকেও খালি চোখে দেখা যাচ্ছিল; আর বিস্ফোরণের শব্দ এত প্রকট ছিল যে রাজধানী দোহায়ও সেটির আওয়া পাওয়া গেছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেডের কারখানার ভেতের নতুন একটি প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছে। রোববার সেই প্ল্যান্টেরকাজ শুরুর পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরল জ্বালানি গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানিকারী দেশ। রাজধানী দোহা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত রাস লাফফান কৌশলগতভাবে কাতারের খুব গুরুত্বপূর্ণ শহর; কারণ দেশটির অধিকাংশ এলএনজি প্রস্তুতকারী কারখানা এই শহরটিতে অবস্থিত। বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেডও এমনই একটি এলএনজি প্রস্তুতকারী কারখানা