শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন

বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক / ৪০ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

সুপার সাব মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা।

ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা ১৭টি শট নেয়, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বেলজিয়াম মাত্র ৫টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

এই জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল স্পেন। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দলটি। এরপর ২০১৮ ও ২০২২, দুই আসরেই তাদের যাত্রা শেষ হয়েছিল শেষ ষোলোয়।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। ১০তম মিনিটে সেটপিস থেকে রদ্রির শট রক্ষণে প্রতিহত হয়। ২১তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে লামিন ইয়ামালের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।৩০তম মিনিটে প্রথম লক্ষ্যে রাখা শটেই এগিয়ে যায় স্পেন। ডান দিক থেকে পেদ্রো পররোর পাসে দানি ওলমোর শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে জোরালো শটে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন ফাবিয়ান রুইস।

৩৫তম মিনিটে ইয়ামালের ফ্রি-কিক দারুণভাবে রুখে দেন কোর্তোয়া। এরপর ৪১তম মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের ক্রসে নিখুঁত হেডে সমতা ফেরান শার্ল দে কেটেলারে। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করেন তিনি এবং ১০ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট পর স্পেনের জালে বল জড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইস ও অ্যালেক্স বায়েনাকে তুলে পেদ্রি ও ফেররান তোরেসকে নামান স্পেন কোচ। অপরদিকে ৬০তম মিনিটের পর রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল উইটসেল ও জোয়াকিন সেইসকে মাঠে নামায় বেলজিয়াম।

৬১তম মিনিটে ইয়ামালের দূরপাল্লার শট এবং এক মিনিট পর মিকেল ওইয়ারসাবালের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।তবে ৭০ মিনিটের পর উরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। তার পরিবর্তে গোলবারে দাঁড়ান সানা লমেন্স।৭৯তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসকে এবং কিছুক্ষণ পর মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামায় স্পেন। বদলি হিসেবে নেমে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন মেরিনো। তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির নিচু শট লমেন্স ঠেকালেও বল হাত থেকে ফসকে যায়। সুযোগ বুঝে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার মেরিনো।

বিশ্বকাপে এটি ছিল মেরিনোর দ্বিতীয় গোল। এর আগে শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি।যোগ করা সময়ে জেরেমি ডোকুর ক্রসে বেলজিয়াম সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেলেও এমেরিক লাপোর্তে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্সে তা নষ্ট করে দেন।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সেমিফাইনালের আনন্দে উল্লাসে মাতে স্পেন, আর স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় বেলজিয়াম।


এই বিভাগের আরো খবর