উদযাপনের চেয়ে দেশ গঠন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণকেই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি লজিস্টিক খাতের সমস্যা দূর করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার সিলেট নগরীর তোপখানায় সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়ে দলটি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বর্তমানে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেই হবে না, জনগণের প্রত্যাশা পূরণেও সরকার ও দলের নেতাকর্মীদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও লজিস্টিক খাতের সংকট সমাধানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
দেশের শিল্প ও বাণিজ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে মুক্তাদির বলেন, শিল্প উৎপাদনের প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চাল ও কিছু কৃষিপণ্যে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও প্রতিবছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন গমসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে হয়।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ঘাটতি একদিনে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আনা এবং রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি তৈরি করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই সিলেটে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশলের ভিত্তিতে নেতাদের বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়ে থাকে। দায়িত্ব বণ্টনের এই প্রক্রিয়াকে সমন্বয়হীনতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দলের শক্তি ও কৌশলকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করে নতুন উদ্যম তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।নেতাকর্মীদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে মুক্তাদির বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ফিতা কেটে সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। দেশ, জাতি ও দলের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।