যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মীদের যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ক ভিসার কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার বর্তমান সুযোগ হারাতে পারেন। এতে ভারতীয় কর্মীদের ওপর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে, কারণ ভারতীয় নাগরিকরা এইচ-১বি কর্মীদের বড় একটি অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের প্রস্তাবটির নাম দেওয়া হয়েছে “৬০ দিনের বিবেচনামূলক গ্রেস পিরিয়ড বাতিল”। প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান অভিবাসন বিধির সেই অংশটি বাদ দেওয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।
বর্তমান নিয়মে যোগ্য কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়ে গেলে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা আই-৯৪-এ অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। এই সময়ে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এই ৬০ দিনের সুরক্ষা আর থাকবে না। চাকরি বা সংশ্লিষ্ট যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর বর্তমান নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ভিত্তি শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ভিত্তি না থাকলে তাকে দেশ ছাড়তে হতে পারে।
প্রস্তাবটি শুধু এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নয়। এইচ-১বি১, এল-১, ও-১, টি-এন, ই-১, ই-২ এবং ই-৩ ভিসার কর্মীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ওপরও পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও চীন থেকে আসা কর্মীদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি হলো, কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাকরি বা যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক থাকা উচিত। চাকরি শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় একই স্ট্যাটাস বজায় রাখার সুযোগ বর্তমান ব্যবস্থায় সেই সম্পর্ককে দুর্বল করে বলে মনে করছে বিভাগটি।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোনো কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার পর নতুন আই-১২৯ আবেদন করতে পারেন। আবেদন অনুমোদন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ হলে কর্মী নতুন চাকরির জন্য আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এই মতামত পর্যালোচনার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবটি পরিবর্তন, প্রত্যাহার অথবা চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।অর্থাৎ এখনই এইচ-১বি বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসার ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। বর্তমান নিয়ম এখনো কার্যকর রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য কর্মীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পাবেন।
প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয়সহ অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য এটি অভিবাসন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।