পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেল থেকে একটি কুকুর খোলাপাড়া, রাজা খাঁ, দামরাইল, সাদেকপুর ও হাংমাড়া মসজিদসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে নারী, পুরুষ ও শিশুদের কামড়াতে থাকে। পরে হাংমাড়া মসজিদের সামনে স্থানীয়রা কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। আহতদের মধ্যে তারিফ (২০), সালমান (৪), বায়জিদ (১১), তারিন (১৬), আশরাফুল (১২), তসিবা (৯), রবিউল্লাহ (৪০), জামাল (৪৫), আব্দুল বাসার (৭০), নুর আলম (৪০), ইয়াসমিন (৩৫), তোফাজ্জল (১৭) ও সাফিয়া (৩২) রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের নাম জানা যায়নি।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুকুরের কামড়ে আহতদের জরুরি ভিত্তিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জরুরি ভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ খোলা হয়। সেখানে ১০ থেকে ২০ জনকে র্যাবিক্স-ভিসি ও র্যাভিক্স-আইজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা হাসপাতালে এলে তাদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ওআরটিসি বিভাগের ইনচার্জ ফেরদৌসী বেগম বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৮০ জন রোগীকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সাদেকপুরে কুকুরের কামড়ের ঘটনা জানার পর জরুরি ভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ খোলা হয় এবং ১০ থেকে ২০ জন রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন তিনি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ খোলা হয়। আহতদের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের সরবরাহ রয়েছে। তিনি বলেন, কুকুরে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত।