শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন সিলেটের নগরের আখালিয়া এলাকা সুরমা নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ সাঈদা ইয়াসমীন।রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ৬টার দিকে তিনি পদত্যাগ করেন বলে সুরমা নার্সিং কলেজ সূত্র জানিয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন সাঈদা ইয়াসমীন।অধ্যক্ষের পদত্যাগের পর সহকারী অধ্যাপক সুরবা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ।এরআগে রোববার সকাল থেকে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কলেজের শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা, ফি আদায় ও কলেজের প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। এসব বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও প্রত্যাশিত সমাধান না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামেন।
বিশেষ করে মিডটার্ম, রিটেন ও টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য পৃথক ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মিডটার্ম পরীক্ষায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পর পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়েও বিরোধ দেখা দেয়। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নেই পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার দাবি জানালেও অধ্যক্ষ নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
এ ছাড়া হাসপাতালে রাতের ডিউটি শেষে সকালে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়ার অভিযোগও রয়েছে। রাতের ডিউটি ও সকালের পরীক্ষা একই সময়ে চলায় শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলনে নামেন।
এদিকে রোববার দুপুরে কলেজের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুজ্জামান কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ সাইয়েদা ইয়াসমীনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কলেজে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে অধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অনলাইনে দেওয়া কলেজের হেল্পডেস্ক নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।আর রায়হান নামে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের পদত্যাগপত্র প্রদর্শনের পর আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি।