বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন

শাহজালাল ব্রিজের স্লাব ভেঙ্গে রড চুরির হিড়িক, দুর্ভোগে পথচারী

জাবেদ এমরান / ১০৫ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শাহজালাল ব্রিজের স্লাব ভেঙ্গে রড চুরির হিড়িক, দুর্ভোগে পথচারী

শাহজালাল ব্রিজের স্লাব ভেঙ্গে রড চুরির হিড়িক, দুর্ভোগে পথচারী

সিলেটের দক্ষিণ ও উত্তর সুরমার মধ্যে সংযোগস্থাপনকারী শাহজালাল ব্রিজের ফুটপাতের স্লাব ভেঙ্গে রড চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পথচারীরা চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়ে। রাতের আঁধারে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ব্রিজ পারাপারে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বিরাজ করছে। নতুন স্লাব দ্রুত স্থাপনের দাবি উপকারভোগীদের। সরজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় শাহজালাল ব্রিজে জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাতে অর্ধশতাধিক স্লাবের ভাঙ্গা কংক্রিট পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিছু দুরদুর ব্রিজের দুপাশের এসব স্লাব রাতের কোনো এক সময় ভেঙ্গে রড চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎ, টেলিফোন, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লাইন বেড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা তিন ফিট বাই দুই ফিট সাইজের এসব স্লাব ইট বা পাথর দিয়ে আঘাত করলে সহজে রড বের হয়ে আসায় চুরি থাকছে না। তবে শক্তপোক্ত অন্য স্লাবের ওপর দিয়ে পথচারীরা দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন। ব্রিজের উত্তর পাশে সিলেট অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের এর অফিস। তার পাশে সিলেট ল কলেজ, শাহজালাল সিটি কলেজ, সীমান্তিক কলেজ, সীমান্তিক নার্সিং ইনস্টিটিউট, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে স্টারলাইট একাডেমি অ্যান্ড কলেজ, স্কলার্স হোম কদমতলী শাখা, কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী- অভিভাবকসহ নানা প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতা নিয়মিত ব্রিজের ফুটপাত ব্যবহার করে থাকেন। তবে অনেকে ফুটপাতের দুর্নদশার কারনে এই পথে চলাচল কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

আলমপুরস্থ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে ফেরার পথে কথা হয় আলী আহমদের সাথে। তিনি যুগভেরীকে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, চলাচলে অনুপযোগী সড়ক ব্যবহার করছি বাধ্য হয়ে। পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলে কর্তাব্যক্তিদের ঘুম ভাঙে। তার আগে তারা চোখে দেখেন না। তারা কি এই ব্রিজ ব্যবহার করেন না? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরো বলেন, ঠিকাদার চুরি করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে স্লাব তৈরি করে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরে সেই স্লাব ভেঙ্গে সহজে রড চুরি হচ্ছে। বিষয়টি কঠোর নজরদারীর প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। ব্রিজে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং সহজে যাতে না ভাঙ্গে এমন শক্তপোক্ত স্লাব পুনঃস্থাপন করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোহাম্মদ আনহারুজ্জাম।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন গতকাল যুগভেরীকে বলেন, আমি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় অনেক কিছু জানিনা। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। এই প্রতিবেদককে সামনে রেখে ব্রিজ এলাকার দায়িত্বে থাকা অফিসারকে ভাঙ্গা স্লাব দ্রুত পুনঃস্থাপনের জন্য মোবাইল ফোনে নির্দেশ দেন।

 


এই বিভাগের আরো খবর