পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে একজন খেলোয়াড়ের অর্জন ও সাফল্যের ঝুলিতে যত ধরনের ট্রফি, রেকর্ড কিংবা ব্যক্তিগত স্বীকৃতি থাকা সম্ভব—তার সবকিছুই ইতোমধ্যে নিজের করে নিয়েছেন জাদুকর লিওনেল মেসি। তবে এবার নিজের অতীতের সাফল্য ছাপিয়ে এই মহাতারকার সজাগ দৃষ্টি ভবিষ্যতের দিকে। বিশ্বফুটবলের আগামী দিনে সবুজ গালিচায় যারা রাজত্ব করবেন, নিজের পছন্দ ও দৃষ্টিতে তেমন সম্ভাবনাময় ১০ জন তরুণ তুর্কি ফুটবলারের নাম প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডিডাস’-এর নতুন বিশেষ প্রচারণা ‘মেসি+টেন’-এর অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এই ১০ উদীয়মান তারকা। নতুন প্রজন্মের এই অ্যাথলেটদের নিয়ে নির্মিত প্রচারণায় বলা হয়েছে—‘দশটি অধ্যায়, যা নতুন করে লিখবে ফুটবলের ভবিষ্যৎ। এটি এমন এক গল্প, যার কেবল সূচনা হচ্ছে।’
মেসির এই বিশেষ তালিকায় জায়গা পেয়েছে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের ১৮ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার তোমাস আরান্দা। তাঁর এই উপস্থিতি আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে দারুণ উল্লাস ছড়িয়েছে। দুর্দান্ত কারিগরি দক্ষতা, ড্রিবলিং ও নিখুঁত পাসিংয়ের জন্য খ্যাতি কুড়ানো এই তরুণ প্লেমেকার জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিরও নজর কেড়েছেন; এমনকি সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক স্কোয়াডেও তাঁকে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ডান পায়ের ফিবুলার হাড় ভেঙে যাওয়ায় মাঠের বাইরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আরান্দা। এমতাবস্থায় ফুটবলের কিংবদন্তির মুখ থেকে এমন স্বীকৃতি তাঁর পুনর্বাসন লড়াইয়ে বড় ধরনের মানসিক প্রেরণা জোগাবে।
এদিকে শুধু পুরুষ ফুটবলাররাই নন, মেসির এই তালিকায় সমান গুরুত্ব দিয়ে জায়গা দেওয়া হয়েছে নারী ফুটবলের উদীয়মান প্রতিভাদেরও। জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিভাবান মুখগুলোকে এই তালিকায় তুলে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের বিস্ময় বালক ম্যাক্স ডাউম্যান কিংবা বুন্দেসলিগার ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে খেলা তুর্কি প্রতিভা জান উজুনরা ইতিমধ্যে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে বেশ জোরেশোরে আলোচনা তৈরি করেছেন।
মেসির চোখে ভবিষ্যতের ১০ মহাতারকা:
১. তোমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়র্স, আর্জেন্টিনা)
২. জান উজুন (আইনট্রাখট ফ্রাংকফুর্ট, তুরস্ক)
৩. গিলবার্তো মোরা (ক্লাব তিহুয়ানা, মেক্সিকো)
৪. ম্যাক্স ডাউম্যান (আর্সেনাল, ইংল্যান্ড)
৫. জেভিয়ার গোজো (ক্রিস্টাল প্যালেস, যুক্তরাষ্ট্র)
৬. হেসুস রদ্রিগেজ (কোমো ১৯০৭, স্পেন)
৭. কেস স্মিট (এজেড আলকমার, নেদারল্যান্ডস)
৮. ক্লোয়ি সারউই (চেলসি নারী দল, ইংল্যান্ড)
৯. জিওভান্না ওয়াকসম্যান (ওএল লিওন নারী দল, ব্রাজিল)
১০. লোটা ভ্রেডে (হামবুর্গার এসভি নারী দল, জার্মানি)