শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

সাজেকে অবরোধ-নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক / ৭ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
সাজেকে অবরোধ-নিষেধাজ্ঞা

রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কের উজোবাজারে (গঙ্গারাম বাজার) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধা বেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে পাহাড়িদের একটি সংগঠন। ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ নামের সংগঠনটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ স্থানীয় দুটি সংগঠনের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং প্রশাসনের সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সাজেক। এতে আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। উপত্যকার শতাধিক রিসোর্ট-কটেজের বুকিং বাতিল হওয়ায় পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সাজেকের উজোবাজারে সংঘর্ষের পর এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাজারের দোকানপাটও বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। গতকাল শুক্রবার সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালনের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেছেন পর্যটন উদ্যোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ ও ১৪ কিলোমিটারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করেন কর্মসূচির সমর্থকেরা। অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, আমাদের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। সকালে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করা হয়েছে। আমাদের অবরোধ চলবে। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় সাধারণ জনগণের প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আটজন গুরুতর আহত।

সাজেকের উজোবাজার (গঙ্গারাম বাজার) এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের পর এলাকার লোকজন ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ফেলে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। ভয়ে ও আতঙ্কে তাঁরা এলাকায় ফিরতে পারছেন না। কে কোথায় গেছেন, তা-ও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। বাজারের দোকানপাট এখনো বন্ধ রয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

উজোবাজার ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা বলেন, ভয়ে তাঁরা দোকানপাট ও বাড়িঘরে যেতে পারছেন না। বাজারের লোকজন ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ফেলে যে যাঁর মতো আশ্রয় নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, কেউ কেউ জঙ্গল ও বাগানে আশ্রয় নিয়েছেন। আতঙ্কে লোকজন বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর