ম্যাচটির নিয়ন্ত্রণ একসময় পুরোপুরি লঙ্কানদের হাতে চলে গিয়েছিল মনে হলেও, ক্রিকেটের চিরচরিত ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ রূপ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিল স্বাগতিক পাকিস্তান। লাহোরে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ১০ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে পেরিয়ে গেছে বাবর আজম-শাহিন আফ্রিদিরা।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের হয়ে কামিন্দু ১২৮ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১৩১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। এছাড়া পবন রথনায়েকে ৬৫ বলে ৭৭ এবং ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ৩৮ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও সালমান আগা প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
৩২৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মাত্র ১৪ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেন সাদ সাদাকাত (৫) ও অভিজ্ঞ বাবর আজম (০)। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান বিপদে পড়লেও তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন ফখর জামান ও সাদ বাইগ। দুজনে মিলে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান।
ফখর জামান মাত্র ৯৯ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১২৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এবং সাদ বাইগ খেলেন ৭৫ বলে ৭৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। এরপর মিডল অর্ডারে সামান্য ধস নামলে ২৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফের ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়।
তবে শেষ দিকে তরুণ হাসান নেওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসের মারমুখী ব্যাটিংয়ে সেই শঙ্কা কাটিয়ে ওঠে পাকিস্তান। জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে আরাফাত মিনহাস ৩১ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ঝোড়ো ৬১ রান করে আউট হন। পরের বলে ফাহিম আশরাফ ফিরে গেলে সামান্য রোমাঞ্চ তৈরি হলেও শাহিন শাহ আফ্রিদি ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করেন। হাসান নেওয়াজ ৪৫ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।