জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে বাঙালি জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা হয়। দেশের নৈরাজ্য ও অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে নেতৃত্বের সংকটের মধ্যে তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরে জাতীয়তাবাদের দর্শন সামনে রেখে বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষকে নিয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
গতকাল শনিবার বিকেলে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালাবাজারে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা।
তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে জাতির সামনে হতাশা ছাড়া আর কিছু ছিল না। নৈরাজ্য ও অর্থনৈতিক মন্দার সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জাতিকে জাতীয়তাবাদের একটি দর্শন উপহার দেন। সেই আদর্শকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষকে নিয়ে বিএনপি গঠন করেন। দেশের মানুষকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে এবং উন্নয়নের জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়ে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে মুক্ত করেছিলেন।
তাহসিনা রুশদীর লুনা আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে। এ কারণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়নি। তবে জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি তারেক রহমান বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। যারা জিয়া পরিবারের নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারা এখন দেশে নেই।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে পরিকল্পনা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম.টিএম ফখর উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহর পরিচালনায় এতে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজল আহমদ জনি, কৃষক দলের আহ্বায়ক মুক্তার আহমদ বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রকিব আলী এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুয়েব আহমদ। এ সময় উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি র্যালি বের করা হয়। দক্ষিণ গোয়ালাবাজার থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর গোয়ালাবাজারে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।