বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

স্ত্রীর ডিভোর্স লেটার পেয়ে আত্মহত্যা করলেন স্বামী

ডেস্ক রিপোর্ট / ৪২৫ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
স্ত্রীর ডিভোর্স লেটার পেয়ে আত্মহত্যা করলেন স্বামী

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্ত্রীর ডিভোর্স লেটার পেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আজিজুল হক রবিন নামের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে।

রোববার (১৫ জুন) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার শেষে থানায় নিয়ে আসে। আজিজুল হক রবিন উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিন আট বছর আগে পার্শ্ববর্তী সদর দক্ষিণ উপজেলার গোয়ালগাঁও গ্রামের নাছিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের জান্নাত আরা নামে ছয় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। সেই ঝগড়ার জের ধরে ছয় মাস আগে নাছিমা আক্তার একমাত্র সন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে অনেক চেষ্টা করেও স্ত্রীকে আনতে ব্যর্থ হন রবিন।

দুই মাস আগে নাছিমা আক্তার স্বামী আজিজুল হক রবিনের ঠিকানায় ডিভোর্স লেটার পাঠান। পরিবারের লোকজন রবিনকে প্রথমে বিষয়টি জানায় না। পরে ঈদের ছুটি শেষে পার্শ্ববর্তী গার্মেন্টসে চাকরিতে যোগদানের জন্য ‘পরিচয়পত্র’ খুঁজতে গিয়ে সে ডিভোর্স লেটারটি দেখতে পায়। এরপর থেকে তার মন খারাপ হয়ে যায়।

সর্বশেষ শনিবার বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর রোববার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় বাড়ির লোকজন।

রবিনের ভাই আশরাফুল ইসলাম শাওন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাইয়ের সঙ্গে ভাবির ঝগড়া চলছিল। ছয় মাস আগে ভাবি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর দুই মাস আগে ডিভোর্স লেটার পাঠান তিনি। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে গোপন রাখা হলেও দুদিন আগে আমার ভাই ডিভোর্স লেটারটি দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ ঘটনার জেরেই আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করছি।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক তারেক উদ্দিন আকাশ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

 


এই বিভাগের আরো খবর