রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

সিলেটে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

মোঃ পাবেল আহমদ / ১৩২ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
সিলেটে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের বিপণিবিতানগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। রমজানের শুরু থেকেই কেনাকাটার মৃদু আবহ তৈরি হলেও দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে পোশাক ও জুতার দোকানগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

আলোকসজ্জায় সেজেছে শপিং মল ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে ও উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে নগরীর বড় বড় শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোকেও সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। মরিচা বাতির রঙিন ঝলকানিতে পুরো বাজার এলাকা এখন আলোকোজ্জ্বল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার কারণে ক্রেতারা কেনাকাটায় বাড়তি আনন্দ পাচ্ছেন, যা বিক্রিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পোশাকের বাজারে পছন্দের শীর্ষে যা আছে গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর ব্লু-ওয়াটার, শুকরিয়া মার্কেট, সিটি সেন্টার ও আল-হামরা ভিউসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পছন্দের পোশাকটি বেছে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। এবারের ঈদে নারীদের পছন্দের তালিকায় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে, সুতির ব্লক-বাটিক: গরমের কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক সুতি পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। জর্জেট ও সিল্ক: উৎসবের আমেজে আভিজাত্য আনতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন কারুকাজ করা সিল্ক বা জর্জেট থ্রি-পিস। বাজেট ফ্রেন্ডলি পোশাক: ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা মূল্যের থ্রি-পিসগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

পাঞ্জাবির কালেকশনে নতুনত্ব পুরুষ ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ এখন পাঞ্জাবির দোকানগুলো। নগরীর নামী-দামি ব্র্যান্ড ও শপিং মলগুলোতে এসেছে নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবির কালেকশন। তরুণদের মধ্যে এবার ফিটিং ও আধুনিক কারুকাজের পাঞ্জাবির প্রতি ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে। সুতি ও কটন কাপড়ের পাঞ্জাবিতে ভিন্নধর্মী এমব্রয়ডারি ও প্রিন্টের কাজ নজর কাড়ছে সবার। “গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের ডিজাইন অনেক বেশি। বিশেষ করে আরামদায়ক কাপড়ের কালেকশনগুলো বেশ ভালো লাগছে।” কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা।

তৎপর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঈদ কেনাকাটাকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনও বেশ তৎপর। ভিড় বাড়ার সাথে সাথে নগরীতে যেন যানজট অসহনীয় না হয়, সেজন্য ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি শপিং মলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং পকেটমার ও ছিনতাই রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রেকর্ড বিক্রির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ১৫ রমজানের পর থেকে কেনাকাটার এই ঢল আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত কেনাবেচা সন্তোষজনক এবং পরিস্থিতির অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদ বাজার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।


এই বিভাগের আরো খবর