রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন

নগরীতে কেনাকাটায় জমে উঠেছে বাজার

মোঃ পাবেল আহমদ / ১০০ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
নগরীতে কেনাকাটায় জমে উঠেছে বাজার

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। আর সেই উৎসবের আবাহন এখন কয়েক শত বছরের পুরোনো নগরী সিলেটের প্রতিটি অলিতে-গলিতে। দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নগরজুড়ে শুরু হয়েছে ঈদের ব্যস্ততা।

বিপণিবিতানগুলোর রঙিন আলোকসজ্জা জানান দিচ্ছে দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ১৫ রোজার পর কেনাকাটার ধুম আরও বাড়বে, এমন প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে নগরীতে বেড়েছে মানুষের সমাগম। দিনের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে রোজাদাররা যেমন বের হচ্ছেন, তেমনি ইফতারের পর জনসমুদ্র নামছে জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়ার মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে। গৃহবধূ থেকে শুরু করে কোলের শিশু—পরিবারের সবার পদচারণায় মুখর শপিং মলগুলো। ভিড়ের কারণে নগরীতে যানজট বাড়লেও ক্রেতাদের চোখেমুখে ছিল পছন্দের পোশাক পাওয়ার তৃপ্তি।

সিলেটের আভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোতে এবার দেখা যাচ্ছে নতুনত্বের ছোঁয়া। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের ঝোঁক এবার দেশি বুটিক এবং এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পোশাকের দিকে।

গরমের কথা মাথায় রেখে এবারও সুতির কদর সবচেয়ে বেশি। আড়ং বা মাহা’র মতো ফ্যাশন হাউসগুলোতে ক্রেতারা ঋতুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক কিনছেন। কুমারপাড়ার ‘দেশী-দশ’ সহ বিভিন্ন শোরুমে নারীদের প্রধান আকর্ষণ শাড়ি। টাঙ্গাইল সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক, জামদানি ও কোটা শাড়ির পাশাপাশি এবার জুট কাতান ও হাফসিল্কের ব্যাপক চাহিদা দেখা যাচ্ছে।

শুধু শহরের মানুষই নন, ভালো মানের পোশাকের সন্ধানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও ক্রেতারা ছুটে আসছেন সিলেটে। অনেকে ভিড় এড়াতে আগেই সেরে নিচ্ছেন কেনাকাটা। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে পছন্দের পোশাক খুঁজে পাওয়ার এই ‘ছুটাছুটি’ যেন ঈদের আনন্দেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এবার কালেকশন ভালো থাকায় বিক্রি সন্তোষজনক। তবে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত তারা। জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান,

“এখনও বেচাকেনা চলছে মূলত শাড়ি ও শিশুদের পোশাক ঘিরে। মাসের শেষ দিকে পাঞ্জাবি ও প্রসাধন সামগ্রীর বিক্রি বাড়বে। তবে ১৫ রোজার পর পুরো বাজার উৎসবের পূর্ণতা পাবে।”

ঈদের এই রঙিন আলোকসজ্জা আর মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে—শত বাধা আর সীমাবদ্ধতার মাঝেও উৎসবের আনন্দকে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত পুণ্যভূমি সিলেটের মানুষ।


এই বিভাগের আরো খবর