সিলেট নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা একটি টর্চার সেলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়কারী সেই ১০ অপহরণকারীকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৫ মার্চ) সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই মাসুদ আহমেদ গত বৃহস্পতিবার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাঁতীপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে এই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এর আগে সুহেল সরকার (২২) নামে দিরাইয়ের এক যুবককে অপহরণ করে মারধর এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছিল এই চক্রটি। সুহেল সরকারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার করা হয় ধারালো চাকু, কেঁচি, লোহার রড ও স্টিক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: তানজিম মাহবুব নিশান (২১), আহসান হাবিব মুন্না (১৯), জুবাইন আহমদ (১৯), সুফিয়ান আহমদ (১৯), মো. জাকির হোসেন (১৯), মো. মারজান (১৯), মোসাদ্দেক আলী (১৮), ফারদিন আহমদ (১৮), জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) এবং মিজান আহমদ (১৮)।
এদিকে, এই অপহরণ মামলায় ছেলে ফারদিন আহমদ গ্রেপ্তার হওয়ায় নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগ করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ১৬নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক রুমান আহমদ। গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তিনি মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি পত্র জমা দেন।
অব্যাহতি পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, তার সন্তান নির্দোষ হলেও একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে পারিবারিক কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক—তা তিনি চান না। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ায় তার সন্তান নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে পুনরায় পদে ফেরার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।