খুলনা মহানগরীর হেরাজ মার্কেট মসজিদের ইমামকে নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মসজিদের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। মার্কেট কমিটির নেতারা বলেন, শুক্রবার আমরা জানতে পারি ইমাম পরিষদ মসজিদে আজ একটি মিটিং করবে। তাৎক্ষণাৎ আমরা খুলনা থানায় অভিযোগ দায়ের করি। সদর থানা পুলিশের ওসি ইমাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মিটিং স্থগিত করে দেন। তারাও সেটা মেনে নেন। কিন্তু আজ আসরের নামাজের সময় তারা মসজিদে প্রবেশ করে এবং নামাজ শেষে সেই বিষয়গুলো উত্থাপনের চেষ্টা করেন। তখন হেরাজ মার্কেট ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব পিন্টু জানান এটাতো প্রশাসন থেকে নিষেধ করা আছে। তাহলে এখানে কেন করছেন।
এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ইমাম পরিষদের সঙ্গে আসা কিছু বহিরাগতরা সাধারণ সম্পাদকের উপরে হামলা করেন। এতে তিনি সহ মার্কেটের কয়েকজন আহত হন। খুলনা হেরাজ মার্কেট ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব পিন্টু বলেন, বৃহত্তর হেরাজ মার্কেট মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। আমরা বলেছি, আইন আইনের প্রক্রিয়ায় চলুক। যেহেতু উনি বিতর্কিত হয়েছে, নামাজ না পড়াক। মুসল্লিরা নামাজ পড়বে না, তবুও উনি নামাজ পড়াবেন। ইমাম পরিষদকে পরিকল্পতভাবে ম্যানেজ করে নিয়ে এসে মিটিং শুরু করলেন। নিষেধ করার পর আমাদের উপর হামলা চালায়।
তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মসজিদের ইমাম আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, খুলনা হেরাজ মার্কেটের ইমামের বিরুদ্ধে গত ৫ মাস আগে আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছিল। আদালত সেটিকে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে তদন্তে নির্দেশ দিয়েছিল। মার্কেট কমিটির নেতৃবৃন্দ মসজিদে নতুন ইমাম নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে।
অপরদিকে, এ মামলা নিয়ে ইমাম পরিষদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের ভাষ্য ইমামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করলে আমাদের কোনো অভিযোগ থাকবে না। ইমাম পরিষদ ওই ইমামকে মসজিদে রাখার কথা বললেও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ জানায় তারা মসজিদের মুয়াজ্জিনের পেছনে নামাজ পড়লেও তার পেছনে নামাজ পড়বে না। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।