সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত বছরের তুলনায় এবার সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন।এর আগের বছর ২০২৪ সালেও পরীক্ষার্থী কমেছিল ৬ হাজার ৮৫৪ জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে ছেলেদের মধ্যে পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই সংখ্যাতাত্ত্বিক বিপর্যয় ঘটছে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেট বিভাগের চার জেলার ২২৫টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে। প্রথম দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৮৯ হাজার ৪২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৬১ জন বেশি।
বিভাগের মধ্যে বরাবরের মতো সিলেট জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ জেলায় ৯৪টি কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৩৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলায় ৩৭টি কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯১৩ জন, সুনামগঞ্জে ৪৫টি কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৩৮৩ জন এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৪৯টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছে।
এ বছর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে মানবিক বিভাগে। এই বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ৫৮ হাজার ৩২ জন। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে ২৫ হাজার ১৫৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬ হাজার ২৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মানবিক বিভাগে জেলাওয়ারি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা—সিলেটে ২১ হাজার ৫০৯, মৌলভীবাজারে ১২ হাজার ২৫৩, সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৯৪৭ এবং হবিগঞ্জে ১০ হাজার ৩২৩ জন।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বলেন, “এ বছর মোট ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণের হার অনেক বেশি। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ছেলেদের মধ্যে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা। এছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন কারণেও অনেক ছেলে শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে।” তিনি আরও জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।