সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্র, আহত ৪

সি/চা/খ/ডেস্ক / ২০৫ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্র, আহত ৪

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্র, আহত ৪

আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিকদের মধ্যাকার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাস ও বাসের কাউন্টার। উভয় পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ২টা থেকে সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জকিগঞ্জ-জাফলং রুট এবং মিতালি পরিবহণ, হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস, জগন্নাথপুর রুটের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর রুটে চলাচলকারী পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে এক নেতা মারা যাওয়ায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে স্থান না পাওয়া মোহাম্মদ শাহজাহানের পক্ষের শ্রমিকরা জোর পূর্বক কার্যালয় দখলের চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনা চলে আসছিল।

সোমবার শাহজাহানকে তাকে ধাওয়া দিয়ে জকিগঞ্জ রুটের শ্রমিকরা জগন্নাথপুর রুটের শ্রমিককে মারধর করে। পরে জকিগঞ্জ রুটের শ্রমিকদের প্রতিহত করতে গিয়ে জাফলং রুটের শ্রমিকদের ওপর হামলা করে বসে ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচল করা মিতালি পরিবহণ শ্রমিক, হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের শ্রমিকরা। তাদের সাথে অন্য রুটের শ্রমিকরা যোগ দিয়ে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্র্ ণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে সব পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের দু’জনকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জাফলং রুটের এক শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তারা মারামারিতে না থাকলেও মিতালি বাস শ্রমিকরা তাদের উপর হামলা চালিয়ে বাস এবং কাউন্টার ভাঙচুর করে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ব্যক্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। এখন সকল রোটের বাস শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কে কাকে মারছে, তা বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। চতুর্দিক থেকে সংঘর্ষ বেধেছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তাই পুলিশ কমিশনারকে সেনাবাহিনী পাঠাতে বলেছি। বিকাল ৪টা ২১ মিনিটে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা মারা যান। এরপর আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আলোচনা চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিকেলে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এসময় বৃষ্টিপাত শুরু হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলেও উভয় পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।


এই বিভাগের আরো খবর