রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য লড়াই রুখে দিয়ে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ডেস্ক / ৪৬ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য লড়াই রুখে দিয়ে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

অবিশ্বাস্য, হাড়হিম করা নাটকীয়তা আর ফুটবল রোমাঞ্চের এক চরম প্রদর্শনী দেখল বিশ্ববাসী! ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুঁচকে কেপ ভার্দে। তবে নবাগত দলটির স্বপ্নিল পথচলা থামিয়ে শেষ মুহূর্তের স্নায়ুযুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। এই রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।

হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের ফুটবলাররা কেউ কাউকে একবিন্দু ছাড় দেয়নি। ৫ গোলের এই হাইভোল্টেজ থ্রিলারে আর্জেন্টিনা বারবার এগিয়ে গেলেও সমতায় ফিরতে এতটুকু দমে যায়নি কেপ ভার্দে। তবে শেষদিকের সুনিপুণ দক্ষতায় ম্যাচটি পকেটে পুরে আর্জেন্টিনা।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলকিপার ভোজিনিয়া। গ্রুপ পর্বে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে রুখে দেওয়া এই গোলরক্ষক আজ আর্জেন্টিনার মহাতারকাদের বিপক্ষেও পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে উঠেছিলেন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ভোজিনিয়া জুজু তাড়িয়ে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে মাঠ ছাড়ে স্কালোনির দল।

শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক ম্যাচে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর ১০০তম ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ান। ম্যাচের প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দূরপাল্লার লং বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে সর্বমোট ২০টি গোলের অনন্য বিশ্ব রেকর্ড গড়েন মেসি, পাশাপাশি টুর্নামেন্টে টানা ৮ ম্যাচে গোল করার এবং একাধিক বিশ্বকাপে অন্তত ৭টি করে গোল করার ইতিহাসও গড়েন তিনি।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে দিরয় দুয়ার্তের নিচু শটে গোল করে কেপ ভার্দেকে ১-১ সমতায় ফেরায়। এরপর ম্যাচের ৬৩, ৭৩ ও ৮১ মিনিটে মেসির একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ ও ফ্রি-কিক অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন কেপ ভার্দের প্রাচীর ভোজিনিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার সবশেষ ১৩টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের মধ্যে এটি ছিল সপ্তম অতিরিক্ত সময়ে জড়ানো ম্যাচ।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯২ মিনিটে) কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে জোরালো শট নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল; ১০৩ মিনিটে কেপ ভার্দের সিডনি লোপেজ কাবরাল বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার শটে গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন।

ম্যাচের একদম শেষভাগে এসে অর্থাৎ ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার কিক থেকে বক্সে হেড নেন রোমেরো, যা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বারগেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়ায়। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে (১১৬ মিনিটে) কেপ ভার্দের একটি নিশ্চিত ফ্রি-কিক গোল রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’ খ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দলের ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে আগামী মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা, যারা অন্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিদায় করেছে।


এই বিভাগের আরো খবর