রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জনস্রোত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৫ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জনস্রোত

ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার ভোর থেকেই রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায় জানানোর অপেক্ষায় ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন কর্মসূচি। ইরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, শোকযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালিত হবে। প্রথম দিনেই বিভিন্ন দেশের নেতারা তেহরানে এসে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শনিবার ও রোববার সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তাঁর পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাবেন।ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাড়ে তিন দশক দেশটির নেতৃত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে জড়ো হতে শুরু করেন। শনিবার সকাল ছয়টায় জনসাধারণের জন্য মূল ফটক খুলে দেওয়ার পর মানুষের ভিড় আরও বাড়ে।শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোমায়ি হামেদি নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমরা আমাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে চাই। তাই এভাবে অপেক্ষা করাটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক কিংবা কঠিন কিছু নয়।

বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরান সরকার। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আকাশপথেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই হতে যাচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বড় শোকসমাবেশ। সে সময় তাঁর জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার আয়াতুল্লাহ খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কোম শহরের উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত তা চলবে।

বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে। পরে নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন। সবশেষে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে আগামী শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। মাশহাদই ছিল তাঁর জন্মস্থান।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনি শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরানে গিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রতিনিধিরা, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর