মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

হালান্ড-ঝড়ে চূর্ণ ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক / ১৪৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
হালান্ড-ঝড়ে চূর্ণ ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় ব্রাজিলের

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এমন প্রতিপক্ষ খুব বেশি নেই, যাদের বিপক্ষে কখনো জয়ের স্বাদই পায়নি সেলেসাওরা। নরওয়ে সেই বিরল ব্যতিক্রম। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে সেই অস্বস্তিকর ইতিহাস আরও দীর্ঘ করলেন আর্লিং হালান্ড। জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো নরওয়েকে তুললেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ২-১ ব্যবধানের এই জয়ে নতুন ইতিহাস লিখল স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা, আর ৩৬ বছর পর শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

নিউ জার্সিতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ বল জালে পাঠিয়েছিলেন, তবে আলেক্সান্ডার সোরলথ অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ব্রাজিল।

১১ মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। মাথিয়াস কুনিয়াকে বক্সে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় রিপ্লে দেখে স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু ব্রুনো গিমারেসের শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড। সেই সেভই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও কুনিয়াদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন নিল্যান্ড। বিরতির পরও নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখেন তিনি। অন্যদিকে নরওয়ের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন হালান্ড। ৪৭ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের জোরালো শট ফিরিয়ে দিয়ে অবশ্য ব্রাজিলকে বাঁচান আলিসন।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণে নতুন গতি আনতে এনদ্রিক ও পরে নেইমারকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। উল্টো ৭৯ মিনিটে নরওয়ে এগিয়ে যায়। বাঁ দিক থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে বক্সের মাঝখানে উঠে দুর্দান্ত হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন আর্লিং হালান্ড।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। এনদ্রিকের বিপজ্জনক বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রিস্টোফার আজের প্রায় আত্মঘাতী গোল করে বসেছিলেন। কিন্তু নিল্যান্ডের অবিশ্বাস্য সেভের পর বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর কাসেমিরোও সহজ একটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

ব্রাজিল যখন সমতার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তখনই শেষ আঘাত হানেন হালান্ড। ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট আলিসনকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। জোড়া গোলে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির কাতারে উঠে আসেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার।

যোগ করা সময়ে অবশ্য এক মুহূর্তের জন্য আশা জাগে ব্রাজিল শিবিরে। কাসেমিরোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি পায় তারা। এবার স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি নেইমার। ব্যবধান ২-১ করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে নরওয়ে। ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে তারা। আর ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন? সেটি আরও অন্তত চার বছরের জন্য অধরাই থেকে গেল।


এই বিভাগের আরো খবর