রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, নৌকাই এখন ১০ গ্রামের ভরসা

ডেস্ক / ৩৪ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, নৌকাই এখন ১০ গ্রামের ভরসা

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী পাইলগাঁও, রানীগঞ্জ ও আশারকান্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানির প্রবল চাপে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী-রৌয়াইল গ্রামের একমাত্র পাকা সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে দুর্ভোগ বেড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে বালিশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশে সড়কটি ধসে পড়ার পর কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় স্থানীয়দের এখন নৌকায় করে চলাচল করতে হচ্ছে।

বন্যার পানিতে কৃষকদের আউশ ধান তলিয়ে গেছে। একইসাথে আমন ধানের বীজতলা ও চারাও পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।

বালিশ্রী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন রুমান বলেন, এই সড়কটি এলাকার মানুষের প্রধান যাতায়াতের পথ। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে আশপাশের এলাকাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

রৌয়াইল গ্রামের মিটু মিয়া বলেন, নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করেই সড়কটি ভেঙে যায়। এই একটি সড়কের ওপর প্রায় ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ নির্ভরশীল। এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। বিশেষ করে রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে সড়কটি মেরামতের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, সড়কটি তাদের বিভাগের আওতায় না থাকলেও সমস্যার সমাধানে তারা সহযোগিতার চেষ্টা করছেন।


এই বিভাগের আরো খবর