রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম পাহাড়ি ঢল-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত, ১১ মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট / ২০ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
চট্টগ্রাম পাহাড়ি ঢল-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত, ১১ মৃত্যু, পানিবন্দি সাড়ে ৬ লাখ মানুষ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ তথ্য মতে শনিবার সাঙ্গু নদীর দোহাজারি অংশে পানি বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার এবং বান্দরবানে ১০৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সাতকানিয়ার বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাতকানিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করে পাহাড়ে বৃষ্টির উপর ভিত্তি করে। সাঙ্গু ও ডলু নদী, হাঙ্গর খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে সাতকানিয়ার দিকে। যার কারণে বান্দরবানের দিকে বৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়বে সাতকানিয়া অঞ্চলে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় পানির স্রোতে সেতু ভেঙে উপজেলার সঙ্গে বান্দরবানের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যার পানি নামছে বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন।

তিনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে তা একেবারে নেমে যায়নি। যার কারণে এখনও লোকজন পানিবন্দি রয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়ন সরজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ইতোমধ্যে ৫৪০মেট্রিক টন চাল, রান্না ও শুকনো খাবার এবং নগদ ৪৩ লাখ টাকা টাকা বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও মহানগরে ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।গত কয়েকদিনের অতি বৃষ্টি ও বন্যায় পানিতে ডুবে বাঁশখালীতে তিন, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় একজন করে মারা গেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে মারা গেছে দুইজন।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী শনিবার সবচেয়ে বেশি পানিবন্দি মানুষ সাতকানিয়া উপজেলায়, ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ জন। এরপর বাঁশখালীতে দেড় লাখ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, গত কয়েক দিনের বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলায় ও মহানগরে ৫১৪টি সড়ক ও ১৭৬টি ব্রিজ-কালভার্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অনেক স্থানে বিদ্যুৎ লাইনেরও ক্ষতি হয়েছে।

চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন বলেছেন, টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ খারাপ’। স্থানীয় প্রশাসন যেরকম চাচ্ছে, আমরা ওরকম দিয়ে যাচ্ছি। আমরা রেডি, যা লাগবে তা দিব।


এই বিভাগের আরো খবর