বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

ব্যাংককের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৫০ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
ব্যাংককের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি, যাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো অবহেলা ছিল কিনা, তা তদন্ত করছে থাই পুলিশ।

রবিবার (১২ জুলাই) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ অগ্নিকাণ্ডে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জানিয়েছেন, বারের কিছু দরজা তালাবদ্ধ ছিল এবং জরুরি নির্গমনপথের কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মঞ্চের কাছাকাছি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দাহ্য সাজসজ্জার উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত পুরো বারে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ প্রধান কিত্তিরাত ফানফেট বলেন, ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। উদ্ধারকারীরা বারের পেছনের শৌচাগারের কাছে অনেক লাশ উদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে মানুষ ওই দিকে ছুটে গেলেও বের হওয়ার পথ না পেয়ে আটকা পড়েন।

অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বুসাকর্ন সায়েনসুক জানান, শৌচাগারের পাশের দরজাটি তালাবদ্ধ ছিল। আর মূল প্রবেশপথের দুটি দরজার সামনে আসবাবপত্র থাকায় সেগুলোও আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল। এছাড়া মঞ্চে প্লাস্টিকের ফুল এবং ছাদে দাহ্য ফোম ব্যবহার করায় আগুন মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগুনে দগ্ধ হওয়ার আগেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করার কারণে। আগুনের সময় উৎপন্ন কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সায়ানাইড গ্যাস দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে নয়, লাইভ মিউজিকসহ রেস্তোরাঁ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। ফলে সেখানে অগ্নিরোধী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল না। ঘটনার পর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্মাণ ও নিরাপত্তাবিধি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বারের মালিকের আগের একটি পাবও ২০১৯ সালে অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়েছিল। তবে সেটি দিনের বেলায় হওয়ায় তখন কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। এবারের মর্মান্তিক ঘটনার পর থাইল্যান্ডজুড়ে বিনোদনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর