সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

নারীর টানে সব বিক্রি, দেখা করতে গিয়ে জানলেন প্রেমিকা এআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩১ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নারীর টানে সব বিক্রি, দেখা করতে গিয়ে জানলেন প্রেমিকা এআই

বিয়ের আশায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর সাথে দেখা করতে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এডিমার রোশা মার্টিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, তাঁর স্বপ্নের সেই প্রেমিকা বাস্তবে কোনো মানুষই নন; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্টিন্সের বাড়ি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহরে। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিল।

অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে জেসিকাকে একজন খামারের মালিক হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। ভিডিওতে সে জীবনসঙ্গী খোঁজার কথা বলত এবং নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও দিত। এসব দেখে মার্টিন্স বিশ্বাস করেন, একজন বাস্তব নারীর সাথে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। একসময় সেই সম্পর্ককে বিয়ের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আশাও করেন তিনি।

গত ৯ অক্টোবর প্রেমিকার সাথে সরাসরি দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন মার্টিন্স। যাত্রার খরচ জোগাড় করতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর মারানিয়াও থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে রওনা হন। দুই শহরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।

১১ অক্টোবর বেলো হরিজন্তে পৌঁছে কথিত প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁকে খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানেই জানতে পারেন, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। অনলাইনে দেখা পরিচয়টি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে যাত্রা করায় বেলো হরিজন্তে পৌঁছানোর পর চরম আর্থিক সংকটে পড়েন মার্টিন্স। এমনকি বাড়ি ফেরার মতো অর্থও তাঁর হাতে ছিল না।

পরে তিনি শহর কর্তৃপক্ষের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে সমাজকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কর্তৃপক্ষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে।টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিন্স বলেন, একাকিত্ব কাটিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আশাতেই তিনি এই দীর্ঘ যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতার সাথে তাঁর প্রত্যাশার কোনো মিল না থাকায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

মার্টিন্সের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে স্বীকার করা হয়, চরিত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।তবে মার্টিন্সের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কথা বলা কিংবা তাঁকে বেলো হরিজন্তে আসার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভিডিওতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আগ্রহ তৈরি করা এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা হতো। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অ্যাকাউন্টটির অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এত কিছুর পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আবার বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তবে এবার বাস্তব কোনো মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার আশায় সেখানে যেতে চান তিনি।মার্টিন্সের এই অভিজ্ঞতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও ও ভুয়া অনলাইন পরিচয়ের ঝুঁকি সামনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁর পরিচয় যাচাই করা এবং অর্থ ব্যয় কিংবা জীবনের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি, ঘটনাটি তারই একটি সতর্কবার্তা।

 


এই বিভাগের আরো খবর